গুয়াহাটি: নাগরিকপঞ্জির তালিকা নিয়ে উত্তেজনার মাঝেই অসম থেকে গ্রেফতার করা হল ৩০ জন রোহিঙ্গাকে। সোমবার তাদের ত্রিপুরা সীমান্ত লাগোয়া চুরাবাড়ি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ধৃতদের মধ্যে পুরুষ, মহিলা এবং বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে। অসম পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এদিন ধৃতেরা আগরতলা থেকে গুয়াহাটিগামী বাসে করে অসমের রাজধানীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। দুই রাজ্যের সীমানা পার করার সময়ে বাসে তল্লাশি চালানোর সময়ে ওই ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধৃতদের জেরা করে চাঞ্চল্যকর নানাবিধ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে অসম পুলিশ। কারণ ধৃত এক রোহিঙ্গা জেরায় জানিয়েছে যে সে ভারতে দীর্ঘ দিন ধরে বাস করছে। জম্মু থেকে দিল্লি এবং গুহাটি হয়ে আগরতলায় গিয়েছিল। কাজের জন্যেই এই দীর্ঘ পথ সে সফর করেছে। পাশাপাশি তার আরও দাবি, “গুয়াহাটিতে আমি তিন দিন একটা হোটেলে ছিলাম। সেখান থেকে কাজের জন্য আগরতলায় গিয়েছিলাম। কোনও কাজ না পেয়ে ফের গুয়াহাটি যাচ্ছিলাম।”

এই ধৃতদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের যোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছে অনেকে। এর পিছনে বড় দালালচক্র আছে বলেও জেরার পরে মনে করছে পুলিশ। কারণ ধৃতদের অনেকে জেরায় জানিয়েছে যে তাদের সঙ্গে রাজু নামের পশ্চিমবঙ্গের এক দালালের যোগাযোগ হয়েছিল। এবং সেই দালাল রাজুর সাহায্যের আগরতলায় গিয়েছিল। ধৃতদের অনেকের কাছ থেকে রাষ্ট্রসংঘের পরিচয়পত্র পাওয়া গিয়েছে। যদিও অনেকের কাছেই বৈধ কাগজপত্র ছিল না।

ফাইল ছবি

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা কাজিয়াতলী সীমান্তের শূন্যরেখায় গত চার দিন ধরে ৩১ জন রোহিঙ্গা বসে রয়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ২০২৯ পিলারের কাছে ৩১ জন রোহিঙ্গা ভারতীয় অংশে বসে রয়েছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদেরকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার চেষ্টা করছে। আর এই ঘটনায় সীমান্তে সর্তক অবস্থান নিয়েছে বিজিবি। রবিবার দুই পক্ষের ফ্ল্যাগ মিটিং-এর পরেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে রোহিঙ্গারা খোলা আকাশের নিচে বসে থাকার কারণে অনেকেই শীত জনিত অসুস্থতায় ভুগছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও মানবিকতার নজির গড়েছে ভারতীয় সেনা। তাদেরকে সকালে সমস্ত খাওয়ার পাঠানো হয়েছে।