তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ভয়াবহ ঘূর্ণি ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হল বাঁকুড়ার রানীবাঁধ ব্লক এলাকার নারকলি গ্রামে। মুকুটমনিপুর কংসাবতী জলাধার থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এই গ্রামে সোমবার বিকেলে ঘূর্ণি ঝড়ে ৩০টির বেশি খড়ের ও করগেটের চাল উড়ে গিয়েছে৷ এর সঙ্গে বেশ কিছু গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। এই ঘটনায় হতাহতের কোন খবর না থাকলেও কয়েক লক্ষ টাকার সম্পত্তি ক্ষতি হয়েছে বলে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে দাবি করা হয়েছে, ভয়াবহ ঘূর্ণি ঝড়ের উৎপত্তি স্থল মুকুটমনিপুর জলাধারে। তবে আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের ওই দাবিকে সমর্থন করা হয়নি। মঙ্গলবার সকালে ওই গ্রামে আমাদের প্রতিনিধিদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে একের পর এক বাড়ির খড় ও করগেটের চাল উড়ে গিয়েছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ নিরাশ্রয় হয়ে পড়েছেন। এক প্রকার ভগ্নস্তূপ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করে আনার চেষ্টা করছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী পতিত পাবন দাস মহন্ত বলেন, বিকেল চারটে থেকে পাঁচটার মধ্যে কংসাবতী জলাধারের দিক থেকে এক ঘূর্ণি ঝড় এসে সব লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে যায়। অসংখ্য মাটির বাড়ির ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি এখনও পর্যন্ত এত শক্তিশালী ঝড় দেখেননি বলে দাবি করেন৷ কোন প্রাণ হানির ঘটনা না ঘটলেও প্রচুর হাঁস, মুরগী ও ছাগল মারা গিয়েছে বলে তিনি জানান।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার গ্রামে পৌঁছে যান স্থানীয় বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তবে আদর্শ নির্বাচনী আচরণ বিধি লাগু থাকায় তিনি কোনভাবে আর্থিক সহায়তা করা বা কোন ধরণের প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না বলেই গ্রামবাসীদের স্পষ্টতই জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইন মেনে যদি ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা সম্ভব হয় সেই বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি৷