রায়পুর: প্রথমবার মাও অধ্যুষিত জঙ্গলে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হল মহিলাদের। ৩০ জন মহিলা কমান্ডোকে মোতায়েন করা হল বাস্তারের দান্তেওয়াড়ায়। এই অঞ্চলে মাওবাদী হামলার খবর শোনা যায় প্রায়ই। এই ৩০ জন মহিলাই আগে ছিলেন মাওবাদী। আত্মসমর্পণ করার পর তাঁদের এই বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হল।

সেই জঙ্গলেই এবার একেবারে ফ্রন্টলাইনে দাঁড় করানো হবে এই মহিলাদের। তার জন্য দেওয়া হয়েছে জঙ্গলের বিশেষ কমব্যাট ট্রেনিং। পুলিশ সুপার অভিষেক পল্লভ জানিয়েছেন, গভীর জঙ্গলে মোট সাইকেল নিয়ে প্যাট্রলিং করা কিংবা মাওবাদী হামলার সব ছক নখদর্পণে রাখার ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে এদের।

তবে শুধু মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করাই নয়, মহিলা মাওবাদীরা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন, তার জন্যই এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ বাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘দান্তেশ্বরী লড়াকে।’ গত ছ’মাসে যে এলাকায় বিজেপি বিধায়ক সহ একাধিক পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে, সেখানেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই মহিলা বাহিনীকে।

দান্তেওয়াড়া পাঁচটি পুরুষের বাহিনী রয়েছে। এটি হবে ষষ্ঠ। এইসব মহিলারাই আগে মাওবাদী ছিলেন কিংবা মাওবাদ কোনও ব্যক্তির স্ত্রী ছিলেন। এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন ডিএসপি দীনেশ্বরী নন্দ।

এর আগেও মহিলা কমান্ডো মোতায়েন করা হয়েছে ওই এলাকায়, তবে এভাবে অপারেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এই মহিলাদের শুধু কমান্ডো ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে তাই নয়, এরা প্রয়োজনে গ্রামবাসীর ছদ্মবেশ নিতে পারবে সহজেই। স্থানীয়দের মত করে শাড়ি পরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারবে।

যেহেতু বাস্তারে মহিলা মাওবাদীর সংখ্যা তুলনায় অনেক বেশি, তাই এই বাহিনীকে কাজে লাগানো যাবে বলেই মনে করছে পুলিশ। মহিলাদের সহজে গ্রেফতারও করতে পারবে এরা।