স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভোটের প্রস্তুতি শুরু নির্বাচন কমিশনের৷ জঙ্গলমহলে থাকা ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে ৩০ কোম্পানিকে রাজ্যের প্রথম দফা নির্বাচনের জন্য পাঠানো হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে খবর৷ আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে পাঠানো হবে এই ৩০ কোম্পানি বাহিনীকে৷

এর সঙ্গে থাকছে রাজ্যে আসা প্রথম দফার ১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর প্রথম দফা নির্বাচনে ৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই ভোট করানো হবে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র বাহিনীও থাকবে প্রথম দফার নির্বাচনে প্রত্যেকটি বুথে।

কোচবিহারে বুথের সংখ্যা ২০১০টি। আলিপুরদুয়ারে বুথের সংখ্যা ১৮৩৪টি। প্রথম দফা নির্বাচনে মোট বুথের সংখ্যা ৩৮৪৪টি। এই মোট বুথের মধ্যে ৪০ শতাংশ বুথে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী অর্থাৎ ১৫৩৮টি বুথে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, এমনটাই খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে।

কোচবিহারে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৮ লক্ষ ১০ হাজার ছশো আটান্ন৷ আলিপুরদুয়ারে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ লক্ষ ৪৩ হাজার ছশো ষোলো৷ কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার এই দুই জায়গার মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ জন।

উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা জানিয়েছিলেন ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে প্রত্যেকটি বুথেই থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ কিন্তু নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র বাহিনী থাকছে প্রতি বুথে৷ সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও কিছু বুথে থাকবেন৷

আর এই জায়গা থেকেই বিরোধীরা ফের সরব হতে চলেছে। তাঁদের যে অভিযোগ ছিল তাকে গুরুত্ব না দিয়ে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ দিয়ে ভোট করানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন তাঁরা৷

উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটে রাজ্যের প্রায় সাড়ে দশ বুথকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছিল কমিশন৷ বলা হয়েছিল রাজ্য পুলিশের পুরনো নথির সূত্র ধরে প্রাথমিকভাবে ১০৩৪৩টি বুথকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ আর তার ভিত্তিতেই ওই সমস্ত বুথে প্রয়োজনমতো আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করে ভোটগ্রহণ পর্ব মেটানো হবে৷ অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করার লক্ষ্যে কমিশন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷

বিগত ভোট এবং সদ্য হয়ে যাওয়া রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটের তথ্যকে সামনে রেখেই লোকসভায় অতি সংবেদনশীল বুথগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ বিশেষ করে গত পঞ্চায়েত ভোটে শাসকদলের বাড়বাড়ন্তের কথা মাথায় রেখেই বিরোধীরা কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছিল৷