স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর কয়েক জন আবাসিক ছাত্রকে মারধোরের অভিযোগ উঠলো একাদশ শ্রেণীর ছাত্রদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত এক ছাত্র বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি। বাকিদের বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা চলছে। ঘটনাটি বাঁকুড়া সদর থানার কালপাথর জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের। শনিবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

খবরে প্রকাশ, কেন্দ্র সরকার পরিচালিত কালপাথর গ্রামের এই বিদ্যালয়ে শনিবার প্রার্থনা সভায় সপ্তম- অষ্টম শ্রেণীর তিন ছাত্র দেরীতে পৌঁছানোর অপরাধে একাদশ শ্রেণীর কয়েক জন ছাত্র তাদের হোস্টেলের দোতলার ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধোর করে। পরে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্ররা কর্ত্তৃপক্ষকে খবর দিলে তারা প্রহৃত ছাত্রদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। খবর দেওয়া হয় অভিভাবকদের।

আহত তিন জনকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিন জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত বিশ্বজিৎ দাস নামে এক ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় যুক্ত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে ঐ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষকে অভিভাবকরা চিঠি দিয়েছেন।

এই ঘটনার পর আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে প্রহৃত ছাত্র ও তার অভিভাবকদের। সৌমিত্র গরাই নামে এক ছাত্র বাড়িতে বসে শনিবার রাতের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে বার বার খেই হারিয়ে ফেলছিল। সে জানায়, তার আঘাত তুলনায় কম হলেও বাকি বন্ধুদের আরো বেশী মারধোর করা হয়েছে। এই ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্কিত অভিভাবক জিতেন গরাই বলেন, রাতে টেলিফোনে খবর পাওয়ার পর সারা রাত ঘুমোতে পারিনি। সকালেই ছুটে এসেছি। এই ঘটনায় যুক্ত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তিনি।

এদিন সকালে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, মারধোরের ঘটনায় গুরুতর আহত ছাত্র বিশ্বজিৎ দাসের চিকিৎসা চলছে। হাতে স্যালাইন লাগানো আছে। নিজের হাতে খেতে পারছেইনা, হাসপাতালে উপস্থিত পরিবারের লোকেরা তাকে শুকনো খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন। এই মুহূর্তে কথা বলার অবস্থাতেও এই ছাত্র নেই।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত সায়ন মুর্ম্মু, খেরওয়াল মাণ্ডি, অর্কপ্রভ মাজি, সুব্রত সাহানা নামে একাদশ শ্রেণীর চার ছাত্র বা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তাই তাদের বক্তব্য মেলেনি। তবে কালপাথর নবোদয় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ কে.কে রাজোরিয়া জানিয়েছেন, অভিযুক্ত একাদশ শ্রেণীর চার ছাত্রকে বহিস্কার করা হয়েছে।