ঢাকা: বোম্বাইয়ের বোম্বেটে গল্প মনে আছে! গল্পকার জটায়ুর হাত দিয়ে বইয়ের মধ্যে করে নানা সাহেবের নেকলেস পাচার করতে চেয়েছিল সান্যাল নামের এক দুষ্কৃতি।

সেই একই প্রক্রিয়ার ধর্মগ্রন্থ কোরানের মধ্যে মাদক পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেল তিন পাচারকারী। তবে সত্যজিৎ রায়ের গল্পে নেকলেস পাচারকারীকে ধরেছিলেন গোয়েন্দা ফেলুদা। বাস্তবের পাচারকারীদের পাকড়াও করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

উপার্জনের স্বার্থে ধর্মকে হাতিয়ার করা নতুন কিছু নয়। ধর্ম নিয়ে পেট চালানোর ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে। তাই বলে ধর্মগ্রন্থকে হাতিয়ার করে মাদক পাচার! যদিও এমন ঘটনাও এই প্রথমবার নয়।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের কক্সবাজার এলাকায়। গ্রেফতার করা হয়েছে তিন পাচারকারীকে। ধৃতেরা ইসলাম ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরানের ভিতরে মাদক ট্যাবলেট ইয়াবা পাচা করছিল। এমনই খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের পূর্ব প্রান্তে কক্সবাজার এলাকায় গভীর রাতে একটি নৌকা দেখতে পায় ওই দেশের সিমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। মায়ানমারের দিক থেকে আগত ওই নৌকা দেখে সন্দেহ হয় বিজবি কর্মীদের। নৌকাটি বড়ইতলী এলাকায় পৌঁছালে তল্লাশির জন্য নৌকাটি আটক করা হয়। সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের দেখে নৌকায় থাকা অনেকেই পালিয়ে যায়। কিন্তু, তিনজন পালাতে পারেনি। তাদের আটক করা হয়।

ধৃত একজনের দেহে তল্লাশি চালিয়ে একটি পবিত্র কোরান উদ্ধার হয়। সেই কোরানের ভিতরের পৃষ্ঠা কেটে লুকিয়ে রাখা ছিল ১৫ হাজারটি ইয়াবা ট্যাবলেট। জানা গিয়েছে উদ্ধার হওয়া ওই মাদক ট্যাবলেটের বাজারদর প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।

বিজবি কর্নেল মহম্মদ আসাদুদ জামান চৌধুরী জানিয়েছেন যে ধর্মীয় ভাবাবেগকে হাতিয়ার করে অপকর্ম চালায় পাচারকারীরা। তিনি বলেছেন, “শ্ররধাবশত আমাদের কর্মীরা কোরান পরীক্ষা করবে না বলেই মনে করেছিল পাচারকারীরা।” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “কক্সবাজার এলাকায় কোরান ব্যবহার করে মাদক পাচার নতুন কিছু নয়।” চলতি মাসের দশ তারিখেই প্রচুর পরিমাণ এই মাদক ট্যাবলেট ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন কর্নেল মহম্মদ আসাদুদ জামান চৌধুরী।