লন্ডন: ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বরিস জনসন। আর তাঁর মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন তিন ভারতীয় বংশোদ্ভূত।

এদের মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন প্রীতি পটেল। ব্রিটেনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলাবেন হোম সেক্রেটারি প্রীতি। তাঁর পরিবার গুজরাতের বাসিন্দা। ব্রিটেনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমর্থক হিসাবে অত্যন্ত পরিচিত প্রীতি এ বার পেয়েছেন জনসন মন্ত্রিসভার তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদটি।

প্রীতি পটেল ছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি হচ্ছেন অলোক শর্মা ও ট্রেজারি সংক্রান্ত দফতরের চিফ সেক্রেটারি হচ্ছে ঋষি সুন। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘ইনফোসিস’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তির জামাই। থেরেসা মে’র আমলে আবাসনমন্ত্রী ছিলেন অলোক শর্মা। এবার আরও গুরুত্বর্পূর্ণ পদ সামলাবেন তিনি।

গুজরাতের বাসিন্দা সুশীল ও অঞ্জনা পটেলের মেয়ে প্রীতি। যদিও বাবা-মা দেশ ছেড়েছিলেন আগেই। প্রীতির জন্ম লন্ডনেই। থেরেসা মে-র ‘ব্রেক্সিট’ নীতির কট্টর সমালোচনা করেছিলেন প্রীতি। বরিস জনসনকে নিয়ে আসার প্রচারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও নিয়েছিলেন। ২০১৬-য় ‘ব্রেক্সিট’ ভোটেও প্রীতির ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৪৭ বছর বয়সী প্রীতি ব্রিটেনের পার্লামেন্টে প্রথম বার কনজারভেটিভ পার্টির এমপি হন ২০১০ সালে। সে বার তিনি এসেক্সের উইথ্যাম থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। জুনিয়র মন্ত্রী হিসাবে ঠাঁই পেয়েছিলেন ডেভিড ক্যামেরনের মন্ত্রিসভায়। ২০১৪-য় তিনি হন রাজস্ব মন্ত্রী। ২০১৫-র পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর প্রীতি পান কর্মসংস্থান মন্ত্রকের দায়িত্ব। ২০১৬-য় প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-র সরকারে প্রীতিকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে অবশ্য একটি বিতর্কের জেরে তাঁকে বাধ্য করা হয় ইস্তফা দিতে।

ঋষি সুনকের বাবা-মা থাকতেন ব্রিটেনেই। ওষুধের ব্যবসা ছিল তাঁদের। লিংকন কলেন ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন তিনি। মূলত ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টে কাজ করেই কেরিয়ার শুরু করেন তিনি। ২০১৫ তে এমপি হন তিনি। ২০১৭-তেও পুনরায় নির্বাচিত হন। নারায়ন মূর্তির কন্যা অক্সতা মূর্তিকে বিয়ে করেছেন তিনি।

অলোক শর্মার জন্ম ভারতেই। আগ্রায় জন্মেছেন তিনি। কিন্তু বাবা-মায়ের সঙ্গে ছোটবেলাতেই দেশ ছাড়েন। পেশায় চর্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আলোক শর্মা ২০১০-এ প্রথমবার এমপি হন।