নয়াদিল্লি : করোনার জেরে সারাদেশে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। এরই মধ্যে গোদের ওপর বিষফোঁড়া হিসেবে দেখা দিচ্ছে অক্সিজেনের সংকট। যার ফলে পরিস্থিতি কয়েক গুণ ঘোরালো হয়ে উঠেছে। হাসপাতালে অক্সিজেনের হাহাকারের ছবি দেখে চোখের জল বাঁধ মানছে না। চোখের সামনে অসুস্থ রোগীর যন্ত্রণা দেখতে হচ্ছে পরিজনদের। উপায় নেই।

আর এই অক্সিজেন সংকটের মধ্যে ফের সামনে এল আরও এক মর্মান্তিক ঘটনার ভিডিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ওই ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, রাজধানীর কোভিড হাসপাতালে করোনা সংক্রমিত হয়ে ভরতি রয়েছেন AAP বিধায়ক সৌরভ ভরদ্বাজ। তাঁর মুখে মাস্কের মতো করে বাধা রয়েছে অক্সিজেনের নল। ওই অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থাতেই ভিডিও বার্তায় হাসপাতালের অক্সিজেন সংকটের কথা বলতে গিয়ে রীতিমতো ভেঙে পড়েন তিনি। অজান্তেই দুচোখ ছল ছল করে ওঠে ওই এমএলএর।

কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দিল্লির ওই আপ নেতা জানান, ” হাসপাতালে এখন যে পরিমাণ অক্সিজেন মজুত রয়েছে তা দিয়ে বড়জোড় ঘণ্টা তিনেক চালানো যাবে। ফুরিয়ে এসেছে অক্সিজেনের যোগান। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে মারা যেতে পারেন বহু রোগী।” আর এই অবস্থায় তিনি কেন্দ্র এবং হরিয়ানা সরকারকে দ্রুত অক্সিজেন সরবরাহের কাতর আর্জি জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, এখন প্রচুর মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেনের দরকার। এই অবস্থায় কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে একসঙ্গে সহযোগীতার আর্জিও জানিয়েছেন তিনি। ওই আপ নেতা বলেন, “জল থেকে মাছকে ডাঙায় তুললে যেমন অবস্থা হয়, অক্সিজেন ছাড়াও এখন আমাদের ঠিক তেমন অবস্থা। প্রাণটা ধড়ফড় করছে। যেন যেকোনও সময় বেরিয়ে যাবে!”

শুধু এই হাসপাতাল না, দিল্লির আরও অনেক হাসপাতালে বৃহস্পতিবারেই অক্সিজেনের জোগান তলানিতে এসে ঠেকে। অক্সিজেনের জন্য কাতর আর্তি শোনা যায়। এ ব্যাপারে কেন্দ্রকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করে দিল্লি হাইকোর্ট। সাফ জানানো হয়, হাসপাতালে অক্সিজেনের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব। জীবনের অধিকারের মতো মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকারের উচিত শিল্পক্ষেত্রে পাঠানো সব অক্সিজেন মেডিক্যাল ব্যবহারের কাছে ফিরিয়ে আনা।

অন্যদিকে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী গতি কিন্তু এখনও অব্যহত। বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৭৩০ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২৬৩ জনের। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত দেশে ১ কোটি ৬২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৯৫ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯২০ জনে। অ্য়াক্টিভ মামলার সংখ্যা ২৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৬১৬। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ২৭৯ জন। এখনও পর্যন্ত মোট সুস্থতার সংখ্যা ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ৪৮ হাজার ১৫৯। করোনাকে ঠেকাতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে টিকাকরণ প্রক্রিয়া। এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে দেশের ১৩ কোটি ৫৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪২০ জনকে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.