সাঁকতোড়িয়া ( পশ্চিম বর্ধমান): কোল ব্লক বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিক উত্তোলনের সরকারের অবস্থান অনড়। কয়লামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী জানিয়েছেন, কোনও অবস্থায় কয়লা ব্লক বেসরকারিকরণ থামানো হবে না। এরই প্রতিবাদে দেশজুড়ে তিনদিনের টানা হরতাল চলছে সবকটি কয়লাখনি অঞ্চলে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে ৪১টি কোল ব্লকের নিলামের পরেই তীব্র আন্দেলন শুরু হয় রাষ্ট্রায়ত্ব খনিগুলিতে। ডান-বাম সব শ্রমিক সংগঠনের অভিযোগ, দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ বাণিজ্যিক উত্তোলন চরম ক্ষতি ডেকে আনবে। প্রতিবাদে তিনদিনের হরতাল চলছে কয়লাক্ষেত্রগুলিতে।

হরতাল কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনেও অচল কোল ইন্ডিয়ার অধীনস্ত সব কয়লাখনি। হরতালের সর্বাধিক প্রভাব পড়েছে ইসিএল,সিসিএল, বিসিসিএলে। প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক কাজে নামেননি। খনি মুখ খাঁ খাঁ করছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গে এই কয়লা শ্রমিকদের হরতালের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার ইসিএলের কয়েকটি এলাকায় তৃণমূল সমর্থক বনাম হরতালে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়। শুক্রবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতি।

ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেডের সদর দফতর পশ্চিম বর্ধমানের সাঁকতোড়িয়া। এখানকার কোনও খনিতেই কাজ হয়নি। একইভাবে প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ড ও বিহারে ছড়িয়ে থাকা সেন্ট্রাল কোলফিল্ড লি.(সিসিএল), ভারত কোকিং কোল লি. (বিসিসিএল) স্তব্ধ।

কয়লা শ্রমিক সংগঠনগুলির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন। এদের অন্যতম সিআইটিইউ, আইএনটিইউসি, এআইটিইউসি, এইচএমএস, এআইসিসিটিইউ, ইউটিইউসি, টিইউসিসি। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে এই হরতালে অংশ নিয়েছে আরএসএসের শ্রমিক শাখা ভারতীয় মজদুর সংঘ( বিএমএস)।

আন্দোলনকারীদের যৌথ মঞ্চের দাবি প্রথম দিনের হরতালে প্রায় ৫ লক্ষ শ্রমিক অংশ নিয়েছেন। সরকারি পরিসংখ্যান, দৈনিক ১৫ লক্ষ কোটি টন কয়লা উত্তোলন হয়। হরতালের প্রথম দিনেই সবকিছু মুখ থুবড়ে পড়েছে।

দ্বিতীয় দিনেও উত্তোলন শূন্য কোঠায় বলে জানা গিয়েছে। কয়লা মন্ত্রকের হিসেব, তিনদিন টানা হরতাল হলে ৩১৯ কোটি টাকার ক্ষতি হবেই।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ