ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলের পর এবার মন্ত্রিসভায় রদবলের পালা। সূত্রের খবর, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের আগে সেই রদবদলের কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রস্তাবিত সেই রদবদলে বাংলা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারে অন্তত তিনটি নতুন মুখ।

গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, বাংলার যে তিন সাংসদের নাম নিয়ে দিল্লিতে আলোচনা চলছে, তাঁরা হলেন, কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক, বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এবং পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো।

এর নেপথ্যে রাজনৈতিক অঙ্কও রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২১-এর ভোটে বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ভোটের ওপর নির্ভর করছে বিজেপি। সেক্ষেত্রে আদিবাসী, তপশিলি ও রাজবংশী ভোট তাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাফল্যের পিছনে এই তিন সম্প্রদায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেক্ষেত্রে বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর মতুয়া সমাজের প্রতিনিধি। রাজবংশীদের মন রাখতে মন্ত্রী হতে পারেন কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ অধিকারী। ওদিকে আদিবাসী কোটায় নাম রয়েছে অন্তত ৩ জনের। তার মধ্যে সব থেকে এগিয়ে রয়েছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো। এ ছাড়া আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লা এবং ঝাড়গ্রামের সাংসদ কুনার হেমব্রমের নামও দিল্লির আলোচনায় রয়েছে বলে খবর।

বাংলা থেকে এখন দু’জন মোদীর মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী। বাবুল সুপ্রিয় ও দেবশ্রী চৌধুরী। বাজপেয়ী জমানার পরে এই প্রথম বাংলা থেকে কেন্দ্রে দু’জন মন্ত্রী। বিজেপির যে সব নেতা-নেত্রী লোকসভায় তৃণমূলকে হারিয়েছেন, তাঁদের রাজ্য সংগঠনেও গুরুত্বপূর্ণ পদে তুলে আনা হয়েছে।

যেমন, সৌমিত্র খাঁকে যুব মোর্চার সভাপতি করা হয়েছে। লকেট চট্টোপাধ্যায়, খগেন মুর্মু, অর্জুন সিংরাও কিছু না কিছু দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজু বিস্তকে সর্বভারতীয় মুখপাত্র করা হয়েছে। তার পর এ বার সম্ভবত, নিশীথ, শান্তনু বা জ্যোতির্ময়দের ভাগ্যে শিঁকে ছেড়ে কিনা এখন সেটাই দেখার।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।