স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: মাত্র তিন দিনেই উত্তর ২৪ পরগণার ঘোলার জোড়া খুন কাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ। ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি অভিযুক্তরা পুলিশি জেরায় নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে। অভিযুক্তদের প্রত্যেককেই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করছে পুলিশ৷

গত ২৮ জানুয়ারি সকালে ঘোলা থানার সদরহাটিতে কল্যাণী হাইওয়ের পাশে একটি নয়নজুলিতে দুই জনের অর্ধনগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার হয়৷ পরে পুলিশ জানতে পারে মহম্মদ সালাউদ্দিন এবং প্রকাশ রাও নামে ওই দুই মৃত ব্যক্তি টিটাগড়ের কুখ্যাত দুই দুষ্কৃতী৷ ওইদিন এই জোড়া খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এক মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করে। ধৃত ওই মাদক পাচারকারীর নাম মহম্মদ রাজু ওরফে দাদ্দা রাজু। সে আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের কারবারি বলে পুলিশ জানতে পেরেছিল। ওই জোড়া খুনের ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২৯ জানুয়ারি মহম্মদ রাজুকে গ্রেফতার করেছিল টিটাগড় থানার পুলিশ।

তাকে পুলিশ টিটাগড়ের উড়ান পাড়ার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছিল। ওই দুষ্কৃতীকে টিটাগড় থানার পুলিশ জেরা করলে জানতে পারে জোড়া খুনের ঘটনায় সে জড়িত। এরপরই তাকে বারাকপুর আদালতের সূত্র ধরে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করে। তাতেই গ্রেফতার হয় আরও দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতী। তাদের নাম মহম্মদ চাঁদ এবং মহম্মদ হাসান ওরফে ছোটকা। পুলিশ তিন কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে জেরা করে জানতে পারে তারাই সালাউদ্দিন এবং প্রকাশকে টিটাগড়ের উড়ান পাড়ায় মহম্মদ রাজুর বাড়িতে ডেকে পাঠায়৷ তারপর সেখানে আকণ্ঠ মদ্যপান করিয়ে দুজনকে বেহুঁশ করে শ্বাস রোধ করে খুন করেছিল।

পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের জেরা করে জানতে পারে, গত ২৮ শে জানুয়ারি রাতে মহম্মদ রাজুর মেয়ের বিয়ের কথা চলছিল। সেখানেই রাজু খুনের পরিকল্পনা করেই প্রকাশ এবং সালাউদ্দিনকে তার বাড়িতে রাতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এরপরই রাজুর বাড়িতে মদের আসর বসে৷ সেখানেই রাজু ও তার ভাই মহম্মদ চাঁদ এবং মহম্মদ হাসান যৌথভাবে শ্বাস রোধ করে খুন করে। পরে মধ্যরাতে ভ্যানে করে প্রকাশ ও সালাউদ্দিনের দেহ নিয়ে গিয়ে বারাকপুর কল্যাণী হাইওয়ে সদরহাটি এলাকায় ওই নয়নজুলিতে ফেলে দিয়ে আসে৷

কিন্তু কি কারণে ওই দুষ্কৃতীরা জোড়া খুনের ঘটনা ঘটাল? খুনের উদ্দেশ্য কি ছিল? প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, প্রকাশ এবং সালাউদ্দিন দুজনেই আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারকারী রাজুর কাছ থেকে মাদক পাচারের ভাগ চাইছিল। রাজুর বিরুদ্ধে আগে একাধিক খুনের অভিযোগ রয়েছে। সেই পুরনো ঘটনার প্রমাণ প্রকাশ ও সালাউদ্দিনের কাছে ছিল।

সেই প্রমাণ পুলিশের হাতে তুলে দেবে ব্ল্যাক মেইল করছিল রাজু৷ শুধু তাই নয় তাদের কাছ থেকে মাদক পাচারের একটা বড় ভাগ চাইছিল সালাউদ্দিন ও প্রকাশ। সেই কারণেই পথের দুই কাঁটাকে একসঙ্গে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে রাজু৷

তাই পরিকল্পনা করে আলোচনার জন্য ওই দুজনকে তার বাড়িতে ডেকে মদ্যপানের আসর বসায় সে। সেখানেই রাজুর পরিকল্পনাতেই তার ভাই চাঁদ ও সাগরেদ হাসানকে নিয়ে খুন করে ওই দুইজনকে৷ রাজু ও বাকি দুই অভিযুক্ত এই খুনের কথা পুলিশি জেরার মুখে স্বীকার করে নেয়। এই জোড়া খুন কাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যেককেই গ্রেফতার করে টিটাগড় থানার পুলিশ। পরে সকল অভিযুক্তকেই টিটাগড় থানার পুলিশ ঘোলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

বৃহস্পতিবার ঘোলা থানার পুলিশ মহম্মদ চাঁদ এবং মহম্মদ হাসানকে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করলে আদালত দুই অভিযুক্তকে আট দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এই খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারী মহম্মদ রাজু আগেই মাদক পাচারের অভিযোগে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। তিনজন অভিযুক্তকে নিয়ে শীঘ্রই এই জোড়া খুন কাণ্ডের পুনর্নির্মাণ করবে ঘোলা থানার পুলিশ।