কাশ্মীর: জম্মু কাশ্মীরে ভয়াবহ তুষারধস। আর তার জেরে মৃত্যু হল কমপক্ষে ৮ জনের। এর মধ্যে তিনজন সেনা জওয়ান বলে জানা গিয়েছে। এদিন দুটি তুষারধসের ঘটনা ঘটেছে। কুপওয়ারাতে মাছিল সেক্টরে তুষারধসে ওই তিন সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই সেনা জওয়ান।

অন্যদিকে অপর তুষারধসের খবর এসেছে, গগনগীরের কাছে কুলান গ্রামে। সেখানে তুষারধসে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সেন্ট্রাল কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলার সোনমার্গে ওই গ্রামটি অবস্থিত। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু করেছে ওই এলাকার সেনা এবং পুলিশেরা।

বিপর্যস্ত এলাকা শ্রীনগর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। উদ্ধারকারী দল সেই কারণে গাড়ি নিয়ে ওই এলাকায় যেতে পারেনি। ফলে পৌছতে দেরি হয়ে যায়। তাই পায়ে হেঁটেই উদ্ধারকারী দল পৌঁছে যায় ওই এলাকায়।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় নিয়ন্ত্রণ রেখায় তুষারধসে সেনাবাহিনীর একজনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি আরও তিনজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ওই তুষারধস শাহপুর সেক্টরে আঘাত হেনেছিল। যার জেরে আটকে পড়ে সেনাবাহিনীর মালবাহকেরা। সূত্র অনুযায়ী, এরপর দ্রুত শুরু করা হয় উদ্ধারকাজ। যারা আটকে পড়েছিল তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে একজনের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন – BREAKING: ফের বিধ্বংসী আগুন দিল্লিতে, ঘটনাস্থলে ২৬ ইঞ্জিন

একদিকে যেমন, জম্মু কাশ্মীরের উঞ্চু অঞ্চলগুলি এবং লাদাখ মারাত্মক তুষারপাতের মুখোমুখি হয়, অন্যদিকে ওই রাজ্যের সমভূমি অঞ্চল মুখোমুখি হয় ব্যাপক বৃষ্টির। লাদাখ এলাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্প-ঝুঁকিপূর্ণ তুষারপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি যে এলাকাগুলি ঝুকিপূর্ণ সেই এলাকাগুলিকে সাধারণ মানুষকে এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, মঙ্গল, বুধবার সন্ধ্যে নাগাদ সন্ধ্যেবেলা বিভিন্ন এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়। যে এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে, তার মধ্যে লে-ও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে ডিসেম্বরে প্রথম সপ্তাহে তুষারধসের কবলে পড়ে মৃত্যু হয় তিন জওয়ানের। কুপওয়ারার তংধরে একটি সেনা শিবিরের উপর আছড়ে পড়েছিল ওই তুষারধস। এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য বিষয় হল প্রতিকূল আবহাওয়া। সমুদ্রতল থেকে ২০ হাজার ফুটের উচ্চতায় ভারতীয় সেনাকে একদিকে যেমন শত্রুপক্ষের সঙ্গে লড়তে হয়, অন্যদিকে তেমন ভাবে নজর রাখতে হয় প্রতিকূল আবহাওয়ার দিকেও। শীতের সময় তাপমাত্রা নেমে যায় -৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত।