মুম্বই: মায়ানগরী মুম্বইতে ফের ধরা পড়ল হাই প্রোফাইল সেক্স র‍্যাকেট। এক তিন তারা হোটেল থেকে সেই চক্র ধরল পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে তিন অভিনেত্রীকে। তিনজনের মধ্যে একজন নাবালিকা বলেও জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় প্রিয়া শর্মা নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওই অভিনেত্রীদের জোর করে তাঁদের দেহব্যবসায় নামানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এই চক্রের মূল চক্রী ২৯ বছরের প্রিয়া শর্মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুম্বই শহরতলির আন্ধেরিতে একটি তিনতারা হোটেলে দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল মধুচক্রের আসর। পুলিশের কাছে কিছুদিন ধরেই মধুচক্র নিয়ে অভিযোগ আসছিল।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার পূর্ব আন্ধেরীর ওই হোটেলে হানা দেয় মুম্বইকে সাইবার ক্রাইম পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, কান্দিভালি এলাকায় একটি ভ্রমণ সংস্থার অফিস খুলেছিল অভিযুক্ত প্রিয়া। এই ব্যবসার আড়ালে চলত দেহব্যবসার কারবার।

উদ্ধার হওয়া মহিলাদের মধ্যে একজন অভিনেত্রী ও গায়িকা। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘‌সাবধান ইন্ডিয়া’‌-য় কাজও করেছেন তিনি। অপরজন মারাঠি ছবি ও ধারাবাহিকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। আর নাবালিকা অভিনেত্রী ইতিমধ্যেই কয়েকটি ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন।

মুম্বইতে আরও একটি মধুচক্রে নাম জড়িয়েছে বলিউডের। গ্রেফতার করা হয়েছে কাস্টিং ডিরেক্টর নবীন কুমার প্রেমলাল আর্যকে। মুম্বই পুলিশের এসএসবি গ্রেফতার করেছে ওই ব্যক্তিকে। শহরে প্রস্টিটিউশন র‍্যাকেট চালানোর দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছে খবর আছে যে মহিলা পিছু ৬০,০০০ টাকা নিত এই ব্যক্তি। গত পাঁচ বছর ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। সঙ্গে ছিল অজয় শর্মা ও বিজয় নামে দুই বন্ধু। এখনও পর্যন্ত অজয় ও বিজয়কে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

এসএসবি-র ইন্সপেক্টর সন্দেহ রেওয়ালে বলেন, আগে থেকে খবর ছিল তাদের কাছে। সেই খবরের ভিত্তিতে মুম্বইয়ের সেভেন বাংলো এলাকার একটি ক্যাফেতে ফাঁদ পেতেছিল পুলিশ।

কাস্টমারের ছদ্মবেশে এক ব্যক্তি ওই নবীন কুমারকে ফোন করে। সেও দুই মহিলাকে পাঠাতে রাজি হয়ে যায়। দুই মহিলা মডেল হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছে। প্রত্যেক মহিলা পিছু ৬০,০০০ টাকা করে চাওয়া হয়। পাশাপাশি একটা হোটেল অ্যাডভান্স বুকিং করতে বলা হয়।

নবীন কুমার দুই মহিলাকে নিয়ে আসতেই তার পরচয় স্পষ্ট হয়ে যায় পুলিশের কাছে। সঙ্গে সঙ্গে নবনকে গ্রেফতার করা হয় ও ওই দুই মহিলাকে উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, এদের মধ্যে একজন মহিলা দিল্লির বাসিন্দা ও গত এক বছর ধরে এই র‍্যাকেটের সঙ্গে যুক্ত।

মধুচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে কিছুদিন আগেই বলিউডের এক প্রোডাকশন ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাটি ঘটে জুহুর একটি চার তারা হোটেলে। পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ওই প্রোডাকশন ম্যানেজারকে গ্রেফতার করে।