যোধপুর: ফের করোনা কবলিত ইরান থেকে দেশে ফিরলেন শতাধিক ভারতীয়। রবিবার সকালে ২৭৫ জন ভারতীয়কে নিয়ে আসা হয়েছে। এদিন সকালে যোধপুর বিমানবন্দরে নামেন ওই ভারতীয়রা। ইরান থেকে ওই ভারতীয়দের উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় সরকার।

দেশে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রবিবার সকাল পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯২৩। করোনার থাবায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এই অবস্থায় ইরানে আটকে থাকা ২৭৫ ভারতীয়কে উদ্ধার করল কেন্দ্রীয় সরকার।

প্রশাসনিক এক কর্তা জানিয়েছেন, ইরান থেকে দেশে আসা ওই ভারতীয়দের স্ক্রিনিং করা হয়েছে বিমানবন্দরেই। পরে তাঁদের প্রত্যেককে মিলিটারি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

জানা গিয়েছে উদ্ধার হওয়া ওই ২৭৫ ভারতীয়দের মধ্যে রয়েছেন ১৩৩ জন মহিলা, রয়েছেন ১৪২ জন পুরুষ। এছাড়াও উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে দুটি সদ্যজাত শিশু ও ৪ নাবালক রয়েছেন।

করোনাভাইরাসে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তেহেরান-সহ পুরো ইরানে৷ এখনও পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি মানুষ ইরানে এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত৷ মারা গিয়েছেন দেড় হাজেরের বেশি৷ গত সপ্তাহেই লাদাখের তিন বাসিন্দা ইরানে তীর্থ করতে গিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন৷ শুধু তাই নয়, গত সপ্তাহে কেন্দ্র সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, ইরানে ২৫৫ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রীর শরীরে COVID19 ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে৷ ১৯ মার্চ ইরানে এক ভারতীয়র মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল ভারত সরকার৷

সম্প্রতি জানা গিয়েছে, ইরানে থাকা ২৫৪ জন ভারতীয়ের শরীরে মিলেছে করোনা ভাইরাস। কিছুদিন আগেই লাদাখ থেকে ৮০০ জনের একটি প্রতিনিধি দল গিয়েছিল ইরানে। ফেব্রুয়ারি থেকেই সেখানে আটকে আছেন তাঁরা। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য পুনে থেকে একদল চিকিৎসক কে পাঠিয়েছিল ভারত। আর সেই চিকিৎসকদের দেওয়া রিপোর্টে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জানা গিয়েছে ওই ভারতীয়রা হোটেলেই আটকে রয়েছে এতদিন ধরে। ইরানের যে অংশে করোনা সবথেকে খারাপ আকার ধারণ করেছে সেই অঞ্চলে ছিলেন অনেকে। কারগিলের বাসিন্দা হাজী মুস্তাফা জানিয়েছেন ইরানের থাকা ভারতীয় আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন তার আত্মীয়। প্রশাসনের তরফ থেকে বিষয়টাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকি তাদের আইসোলেশন এ রাখার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।