বেজিং: সীমান্ত সংলগ্ন প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিতে করোনাভাইরাস সংক্রামিত রোগীর খবর তেমন নেই৷ তবে দূরবর্তী দেশগুলি ও ইউরোপে এই ভাইরাস সংক্রমণের হার বাড়ছে৷ আর চিনে মৃত ২৬৬৩ জন৷ এই অবস্থায় বিশ্ব জুড়ে উদ্বিগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷ চিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবারেই ৭১ জন মারা গিয়েছেন৷ এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৬৫৮ জন। তবে ভাইরাস ছড়ানোর হার আগের তুলনায় কম৷

বিবিসি জানাচ্ছে, চিনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে এলেও এই ভাইরাসে চিনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইরানে ১২ জন। ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮ জন, জাপানে ৫ জন, ইতালিতে ৭ জন, হংকংয়ে ২ জন, ফিলিপাইন্সে ১ জন, ফ্রান্সে ১ জন ও তাইওয়ানে ১ জন মারা গিয়েছেন৷ এশিয়ার মধ্যে চিনের পর ইরান সর্বাধিক করোনাভাইরাসের ভয়াবহ চেহারা৷ ইরান থেকে মধ্য প্রাচ্যের অন্যান্য দেশে এই ভাইরা ছড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল৷ ফলে প্রবল আতঙ্কিত আরব দুনিয়ার দেশগুলি৷ এদিকে ইরান সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে৷ ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে কয়েকটি দেশ। ১০টি প্রদেশে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

আল জাজিরার খবর, ইরানে মৃতের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনই উদ্বেগময় পরিস্থিতি দক্ষিণ কোরিয়ায়৷ দ্রুত দক্ষিণ কোরিয়ায় বাড়ছে ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯৩ জন। আর ইতালিতেও করোনাভাইরাস ছড়ানোয় রোম থেকে বিশেষ নির্দেশে বাতিল করা হয়েছে যাবতীয় পর্যটন সংক্রান্ত কার্নিভাল৷ বেশ কিছু শহরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন, চিন সীমান্ত সংলগ্ন ১৪টি দেশের মধ্যে একমাত্র উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে কিছুই যানা যায়নি৷ আশঙ্কা সেখানকার কিম জং উন সরকার করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য লুকিয়ে রেখেছে৷ আর বাকি ১৩টি দেশের মধ্যে ভারত-নেপাল-ভুটানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনও খবর নেই৷ তবে ভারতে যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন সবাই সুস্থ৷ এদিকে ইউরোপের ইতালিতে এই ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ল৷ সেখানেও বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখেছেন, চিনের সংলগ্ন একমাত্র রাশিয়ার সীমান্ত৷ সেই দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবর নেই৷

কেন সীমান্ত সংলগ্ন দেশগুলিতে তেমন সংক্রমণ নেই করোনাভাইরাসের ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত গবেষকরা৷ তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের টিকা বের করতে এখনও সময় লাগবে৷