রায়পুর: জি মানে জিনিয়াস৷ জনপ্রিয় বিস্কুট কোম্পানি পার্লে জি’র এটাই হল ক্যাচ লাইন৷ এই বিস্কুট ছোটদের ভীষণ প্রিয়৷ এমনকী বিস্কুটের প্যাকেটেও রয়েছে এক শিশুর মুখ৷ সেই বিস্কুট প্যাকেটবন্দি করে খুদে ক্রেতাদের মুখে তুলে দেয় শিশুরাই৷

১২ জুন ছিল শিশু শ্রম বিরোধী দিবস৷ তার ঠিক দু’দিন পর এই জনপ্রিয় বিস্কুট কোম্পানির প্ল্যান্ট থেকে ২৬ জন শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করল পুলিশ৷ ভিন রাজ্য থেকে শিশুদের এখানে এনে নুন্যতম মজুরিতে কাজ করানো হচ্ছিল৷ নির্দিষ্ট সূত্রে খবর পেয়ে প্ল্যান্টে তল্লাশিতে যায় পুলিশ৷ তারপরেই সামনে এল এই ভয়ঙ্কর ছবি৷

ঘটনাটি ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরের৷ অমাশিবনি এলাকায় রয়েছে পার্লে জি’র ফ্যাক্টরি৷ সেখানে হানা দেয় মহিলা ও শিশু কল্যাণ দফতরের গঠিত টাস্ক ফোর্স৷ সঙ্গে ছিল পুলিশ৷ ওই ফ্যাক্টরি থেকে মোট ২৬ জন শিশু উদ্ধার হয়েছে৷ প্রত্যেকের বয়স ১৩ থেকে ১৭র মধ্যে৷ সবাইকে এখন নিয়ে রাখা হয়েছে সরকারি হোমে৷ অপরদিকে মহিলা ও শিশু কল্যাণ দফতর ওই ফ্যাক্টরির মালিকের বিরুদ্ধে জুভেনাইল অ্যাক্টের নানা ধারায় অভিযাগ দায়ের করেছে৷

জেলার চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার নভনীত স্বর্ণকার জানান, ১২ জুন ছিল শিশু শ্রম বিরোধী দিবস৷ সেই উপলক্ষ্যে জেলা জুড়ে শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়৷ এই অভিযানের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়৷ তারাই নানা জায়গায় অভিযান চালাচ্ছিল৷ এখনও পর্যন্ত ৫১ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে যারা শ্রমিকের কাজ করত৷

এদিকে পার্লে জি’র ফ্যাক্টরি থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুরা অনেকেই ভিন রাজ্যের বাসিন্দা৷ কেউ এসেছে ওডিশা থেকে৷ কাউকে আনা হয়েছে মধ্যপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ড থেকে৷ প্রত্যেক শিশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে৷ অন্যদিকে শিশুদের সঙ্গে কথা বলে টাস্ক ফোর্সের কর্তারা জানতে পারেন তাদের ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা করে কাজ করানো হত৷ মাস গেলে হাতে পেত ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা৷

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পার্লে জি বিস্কুট কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন সাধারণ মানুষ৷ বচপন বাঁচাও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সমীর মাথুর কড়া নিন্দা করেন৷ জানান, এটা একদিকে যেমন উদ্বেগের তেমনই লজ্জাজনক যে পার্লে জি’র মতো কোম্পানি যাদের দেশজুড়ে এত সুনাম তারা এমন ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে জড়িত৷ ওই ফ্যাক্টরির মালিকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ধারা প্রয়োগের দাবি জানান৷