নয়াদিল্লি: ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড জামাত-উদ-দাওয়া প্রধান হাফিজ সঈদ ইসলামাবাদের আতিথেয়তা উপভোগ করছে ও চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে তা সত্ত্বেও দোষীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের তরফে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গুরুত্ব দেখাচ্ছে না, আন্তর্জাতিক মহলে তেমন ধারণাই তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারত। পাকিস্তানের ভূমিকায় রীতিমত প্রশ্ন তুলে এই মন্তব্য করা হয়েছে।

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রভিশ কুমার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, “আমরা সকলেই জানি কারা দোষী ছিল এও জানি যে কে মাস্টারমাইন্ড। আমরা এ বিষয়েও ওরা পাকিস্তানের আতিথেয়তা উপভোগ করছেন, ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে ভারত সবরকম তথ্য পাকিস্তানের সঙ্গে শেয়ার করেছিল। পদক্ষেপ নেওয়া ইসলামাবাদের কাজ। অতীতে তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এড়িয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের মানুষরা মনে করেন যে পাকিস্তান মুম্বই হামলাকারিদেড় বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে একদমই সিরিয়াস নয়।”

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বই হামলায় মৃত্যু হয় ১৬৬ জনের৷ মুম্বই হামলায় জড়িত সন্দেহে লস্কর-ই-তোইবা কমান্ডার জাকিউর রহমান লাকভি সহ সাতজনকে গ্রেফতার করে পাক পুলিশ৷ তবে ৬ বছরেরও মামলার সমাধান হয়নি৷ ঘটনাটি ঘটেছিল ছত্রপতি শিবাজি টারমিনাস রেলওয়ে স্টেশনে, কামা হাসপাতাল, নারিম্যান হাউস বিসনেস এন্ড রেসিডেনশিয়্যাল কমপ্লেক্স, লিওপোল্ড ক্যাফে এবং তাজ হোটেল এবং ওবেরয় ত্রিডেন্ট হোটেলে।

এফএটিএফের তরফে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে আর্থিক মদত নিয়ে ‘গ্রে তালিকা’য় রাখবার পরই ইমরান প্রশাসন সন্ত্রাসবাদী নেতা হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলেছে। ৭ ডিসেম্বর তারা হাফিজকে আদালতে সাজা শোনানোর কথা থাকলেও তা শনিবার ফের ১১ ডিসেম্বর পিছিয়ে দেওয়া হয়।

পাঞ্জাবে ২৩ টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে হাফিজের বিরুদ্ধে। আর এই সমস্তকটি অভিযোগই রয়েছে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া নিয়ে। সেই অভিযোগ নিয়ে হাফিজকে আটকও করা হয়।

ভারত সহ বিভিন্ন দেশ একধিকবার পাকিস্তানকে সন্ত্রাসে লিপ্ত দলগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে বললেও কোনও কাজ হয়নি। আরব সাগরের তীরে সেই অভিশপ্ত রাতে মুম্বই দেখেছিল নারকীয় রক্তলীলা। মুম্বইয়ের গর্ব তাজ হোটেল থেকে শুরু করে নারিমান পয়েন্ট, একের পর এক জায়গা গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল পাকিস্তানি জঙ্গিরা। জলপথে মুম্বইয়ের বুকে ঢুকে এমন নৃশংস হামলার নেপথ্যে ছিল পাকিস্তানি জঙ্গিনেতা হাফিজ সইদ। যাকে পরবর্তীকালে বিশ্বসন্ত্রাসবাদীর তকমা দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ।