কলকাতা: সোমবার বিকেল ৫ টা থেকে শুরু হয়েছে লকডাউন। আইন ভেঙে বাইরে জমায়েত হলেই কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এমন বার্তা আগেই দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা । লালবাজার সূত্রে খবর, সরকারি বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করায় সোমবার ২৫৫ জনকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ।

সোমবার লকডাউন চালু হওয়ার পরপরই পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা ট্যুইট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘অনুগ্রহ করে করোনা-সংক্রান্ত সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিতান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোবেন না। সরকারি বিধি লঙ্ঘন আইনত দণ্ডনীয়। আপৎকালীন প্রয়োজনে ১০০ ডায়াল করুন।’

সোমবার মধ্যরাতে কলকাতা পুলিশ কমিশনার ‌ফের ট্যুইট করে তিনি লেখেন, প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। বাড়িতে ‌থাকুন।আগামী দিনগুলিতেও পুলিশের অভিযান চলবে।

শুধু শহরেই নয়, পুলিশের অভিযান চলে জেলায় জেলায়। লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পরই তৎপর প্রশাসন। রাজ্যের সর্বতর নজরদারি চলছে। বারইপুর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ বসুর নেতৃত্বে বারইপুর কাছারি বাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় টহল দেন পুলিশ আধিকারিকরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দোকান ছাড়া যেসব দোকান ছিল সেগুলো বন্ধে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল।

অযথা বাড়ি থেকে বেড়োবেন না এবং কোথাও জমায়েত না করার পরামর্শ দেওয়া হয় হাবড়া থানার পুলিশের পক্ষ থেকে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গুরুত্বপূর্ণ যশোর রোডে গাড়ি চালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার তুলে দেওয়া হয় ।

পাশাপাশি গোবরডাঙ্গা থানার উদ্যোগে সোমবার বারাসাত পুলিশ জেলার ডিএসপি এর নেতৃত্বে পুলিশ গোবরডাঙ্গা এলাকার বাজারে প্রচার অভিযান চালানো হল । সঠিক মূল্যের বেশি নেওয়া হচ্ছে কিনা সরেজমিনে খতিয়ে দেখলেন আধিকারিকরা ।

এদিন বিকেল পাঁচটা থেকে ‘লক ডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। তার মধ্যেও বাঁকুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র মাচানতলায় বেশ কয়েকটি খুলে রাখা দোকান বন্ধ করে দিল পুলিশ। একই সঙ্গে ওই জায়গায় চায়ের দোকান খুলে বসে থাকায় এক চা বিক্রেতার চা উল্টে দিলেন বাঁকুড়া সদর থানার কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। ‘লক ডাউন’ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে বাঁকুড়া শহরের চিরচেনা ছবিটা দ্রুত বদলাতে থাকে।

সিংহভাগ দোকান পাট বন্ধ, জরুরী পরিষেবা বাদে হাতে গোনা যে কটি দোকান খোলা ছিল। যদিও পুলিশ গিয়ে সেগুলি বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলিতে প্রচুর পরিমানে পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাড়ির বেরোচ্ছেননা। বাইক নিয়ে ইতি উতি ঘুরে বেড়ানো মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে পুলিশ। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে সংশ্লিষ্ট সকলকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।