নয়াদিল্লি: তালিকা আগেই প্রকাশিত হয়েছিল৷ তবে এবার দফা ভিত্তিক সেই তালিকা দেখে চক্ষু চড়কগাছ ভোটারদের৷ এডিআর বা Association for Democratic Reforms বলছে, আগামী বৃহস্পতিবার লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছে এমন ২৫১ জন প্রার্থী, যাদের নামের পিছনে অপরাধী শব্দটা সেঁটে রয়েছে৷

উল্লেখ্য, এর আগেই জানা গিয়েছিল, বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকায় ১৮৪ জনের নাম রয়েছে৷ আর সেই তালিকাতেই জায়গা করে নিয়েছে ৩৫ জন অপরাধী, অর্থাৎ বিজেপির ৩৫ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে৷

 

বিজেপির ১৮৪ জনের মধ্যে ৩৫ জন, ১৯ শতাংশ প্রার্থীর নামই রয়েছে অপরাধীর তালিকায়৷ ২০১৪ সালেই এদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছিল৷ myneta.info নামের একটি ওয়েবসাইটে এই সব নেতারা নিজেরাই তাঁদের সম্পর্কে তথ্য দেন, যেখানে দেখা যায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে তারা যুক্ত রয়েছেন৷

এবার এডিআরের রিপোর্ট সব কটি রাজনৈতিক দলের তালিকাই খতিয়ে দেখেছে৷ সূত্র বলছে, এই সব ‘দাগী’ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে খুন, নারী নির্যাতন, শিশু অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে৷ ১৬৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৫৯০ জন প্রার্থীর তথ্য খতিয়ে দেখা গিয়েছে৷ বাকি ৫৪জনের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় তা রিপোর্টে সংযুক্ত করা যায়নি৷

দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রায় ১৬ শতাংশ প্রার্থীই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে স্বীকার করেছে৷ মনোনয়ন দাখিলের সময়ই এই সব তথ্য দিয়েছেন প্রার্থীরা৷ এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত৷ ছজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ রয়েছে, ২৫ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে, ৮জনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ, ১০জনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে৷ ১৫ জন প্রার্থী স্বীকার করেছেন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগ রয়েছে৷

এর আগে এডিআর জানিয়েছিল বর্তমানে লোকসভার যে ৫২১ জন সাংসদ রয়েছেন তাদের মধ্যে ৮৩ শতাংশই হচ্ছেন কোটিপতি। পাশাপাশি আবার এদের ৩৩ শতাংশের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা৷ এই রিপোর্টে অনুসারে দেখা গিয়েছে, ৫২১ জন সাংসদের মধ্যে ৪৩০ জন হলেন কোটিপতি। এই ৪৩০জন কোটিপতির মধ্যে ২২৭ জন হলেন বিজেপি সদস্য৷ কংগ্রেসের কোটিপতি সদস্য সংখ্যা হল ৩৭ জন৷ তালিকায় তারপরেই রয়েছে এআইএডিএমকে-র ২৯ জন।

২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী সাংসদদের গড় সম্পদের পরিমাণ ১৪.৭২ কোটি টাকা। তারমধ্যে ৩২ জন সাংসদের সম্পত্তির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে মাত্র দু’জন সাংসদ হলফনামায় জানিয়েছেন, পাঁচ লক্ষ টাকার কম তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ।