সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : এই রাজ্যে ক্ষমতায় নেই ওঁরা। সরকার গড়ার সম্ভাবনা আজকাল দেখা যায় না। প্রধান বিরোধী থেকে সরে গিয়েছে অনেক দিন। তবু পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২৫০০ পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি পৌঁছলেন তাঁদের ঐকান্তিক চেষ্টায়। কংগ্রেস ও আইএনটিইউসি’র চেষ্টায় হাওড়ার বাড়িতে ফিরলেন ইসমাইল, নুর, রহমানরা।

ঈদে ঘরে ফেরা হয়নি ওঁদের। ওঁরা কর্মসূত্রে কেউ জুয়েলারির কাজ করেন কেউ বা রাজমিস্ত্রি কেউ আবার জরির কাজ। দু পয়সা রোজগারের স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন হাওড়া ডোমজুড় রাঘবপুর মাকড়দহ থেকে ২৫০০ জন শ্রমিক। কাজ করতেন মহারাষ্ট্রের বসাইতে। যা রোজগার করতেন তাতে মোটামুটিভাবে সচ্ছল ছিল অরিন্দম প্রদীপ রহমানের সংসার। হঠাৎ করোনা যুদ্ধে যেন অন্ধকার নেমে আসে প্রদীপ অরিন্দমদের সংসারে। কারোও স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, কারোও বাড়িতে ক্যান্সারের মতন মারন রোগের থাবা। প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। যোগাবে কে? নিজেদের পেট চালানোই দায়। এসবের মাঝে মারা যান লাল্টুর মা। শেষ দেখাও হয়নি।

বর্ণ ধর্মকে ভুলে দিলীপ রহমানরা খাবার জোগাড় করছিল মন্দির মসজিদ গির্জা ঘুরে ঘুরে। হিসাব রাখছিল এই বুঝি আর মাত্র ৭ দিন তারপর শেষ হয়ে যাবে হয়তো লকডাউন। আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। বন্ধ বেতন। মালিকরা খোঁজ নেওয়া তো দূরের কথা ফোনের ওপার থেকে শুধু রিং এর আওয়াজ। আবেদন জানিয়েছিলেন রংবেরং ভুলে সমস্ত নেতাদের কাছে। দুবেলার খাবার খেতে হতো একবারে। মিলতো শুধুই নেতাদের আশ্বাস। পরিচিতি কারোর মধ্যে ফোন এলে শুধু কেমন আছো জিজ্ঞাসা করলে উত্তর ভাঙ্গা গলার স্বর বেঁচে থাকার আর আশা নেই। লাল্টুর করা হয়নি মায়ের শ্রাদ্ধের কাজ। পেটের অন্ন জোগাড় করতেই তো হিমশিম শ্রাদ্ধের খরচা যোগাবে কে?

অবশেষে মহারাষ্ট্র থেকে বাড়ি ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা সোনিয়া গান্ধীর অনুপ্রেরণায় আইএনটিইউসি উদ্যোগে। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন রওনা দিয়েছিল ডানকুনির উদ্দেশ্যে। খুশিতে মুখে হাসি ফুটেছে ওদের। সুরজিৎ বাড়ি গিয়ে দেখবে প্রথম কন্যা সন্তানের মুখ। কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় জানা ছিল না। আইএনটিইউসি’র পক্ষে প্রমোদবাবু তাঁদের টিকিটের পুরোটাই ব্যবস্থা করেন অনলাইনে।

প্রমোদ পান্ডের কথায়, ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরতে পেরে আমিও খুশি কারণ প্রথম ফোনটা ওরা কেঁদেই বলেছিল যে হয়তো আর বাঁচবো না।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘আরও ৪০০ জন শ্রমিক আটকে আছে তারাও এবার বাড়ির পথে রওনা দেবেন। এখন রাজনীতি করার সময় না রাজনীতি ভুলে সরকারের সহযোগিতায় ১৪ দিন তাদের কোয়ারেন্টাইন রেখে তাদের গ্রামে ফেরানো হবে।’ অন্যদিকে আইএনটিউসি সেবা দলের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি-দাওয়া নিয়ে তালতলায় বিক্ষোভে সামিল কর্মীরা।সিএসসির গাফিলতির অভিযোগ রিডিং ছাড়া ইলেকট্রিক বিল পাঠানো বিদ্যুতের বিল তিন মাসের জন্য বন্ধ রাখা বা ৫০% ছাড়ে দাবিতে লাইট পেঁচিয়ে ইলেকট্রিক শক দিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ আইএনটিউসি সেবাদলের পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি প্রমদ পান্ডে সহ আইএনটিসি সেবা দলের কর্মীদের।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব