নয়াদিল্লি: রেল বোর্ডে কর্মী সঙ্কোচনের সুপারিশ করা হয়েছিল বহুবার এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে ভারতীয় রেলমন্ত্রক। রেল বোর্ডের শীর্ষ নেতৃত্বে বেশ কিছু রদবদল ঘটাতে চলেছে তাঁরা। পাঁচ শীর্ষ স্থানীয় ডিরেক্টরকে বদলির পাশাপাশি সেখানকার কর্মীসংখ্যা ২০০ থেকে কমিয়ে ১৫০ জনে নামিয়ে আনার কথা ঘোষণা করেছে রেল দফতর।

রেলমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল বাড়তি ভার লাঘব করে রেলের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা বলেছিলেন কিন্তু সেই সময়ে তা সম্ভব হয়নি। আগামী এক মাসের মধ্যেই রেল বোর্ডের বহু প্রতীক্ষিত সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়িত হতে চলেছে। তবে রেল বোর্ডের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের এই রদবদলে কোনও প্রভাব পড়বে না।

এই প্রসঙ্গে রেলের এক আধিকারিক বলেন, “রেলমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল এই বিষয়ে জোড়াল সুপারিশ করেছেন। একই বিষয়ে রেল বোর্ডে অনেক আধিকারিক রাখার ফলে রেলের কর্মক্ষমতা কমে আসছিল। এ বিষয়ে বারবার বলা হলেও তা সম্ভবপর হয়নি। কিন্তু এতদিন পর কর্মী রদবদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল দফতর।”

২০১৫ সালে অর্থনীতিবিদ বিবেক দেবরায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটিও রেল বোর্ডে রদবদলের সুপারিশ করেন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে রেলের বিভিন্ন প্রোজেক্টের তদারকির জন্য আট সদস্যের কমিটি গঠন করে রেল দফতর। সেই রিপোর্টেও উল্লেখ করা হয় এই বাড়তি ভার লাঘবের জন্য।

এই প্রসঙ্গে পরামর্শদাতা সংস্থা আর্নেষ্ট অ্যান্ড ইয়ং-এর এক আধিকারিকও মনে করিয়ে দেন, “রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সুরেশ প্রভুও একই সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু, সে সময়ে সেই সিদ্ধান্ত রুপায়িত হয়নি। দেরিতে হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রেলমন্ত্রক।”

এমনিতেই ১৭টি জোনে বিস্তৃত ভারতীয় রেলের কাছে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাটা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় আর তাই রেল বোর্ডের সদস্যদের রেলের কর্মক্ষমতা ও দ্রুততা বাড়াতে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক।
রেলের বিভিন্ন জোনকে স্বশাসিত করার কথাও ভাবছে রেল সেক্ষেত্রে রেল বোর্ডের তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজই থাকবে না। সেই কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তাবায়িত করতে চলেছে রেল বোর্ড।