ভুবনেশ্বর: আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর গণধর্ষণ মামলার মূল অপরাধীরা যে ধরা পড়বে বা এই ঘটনার পিছনের “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” যে কোনোদিন প্রকাশিত হবে, সে আশা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছিল, কিন্তু লড়াই চালিয়ে গেছেন তিনি। অবশেষে ২২ বছর পর মিলল ধর্ষণের বিচার।

ভুবনেশ্বর থেকে কটক যাওয়ার সময় আজ থেকে প্রায় ২১ বছর আগে নিগৃহীত ও নিপীড়িত হতে হয়েছিল ২৯ বছরের অঞ্জনা মিশ্রকে। প্রায় ২১ বছর বাদে গ্রেফতার করা হল প্রধান অভিযুক্ত বিবেকানন্দ বিশওয়াল ওরফে বিবানকে। ছদ্মনামে এতদিন লুকিয়ে ছিল সে।

অঞ্জনা মিশ্র বলেন, “২২ বছর অনেকটা সময়। এরমধ্যে অভিযুক্তরা মৃত বা দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও বলা হত।” ফোনে কথা বলার সময় তিনি বলেন, তাঁর কাজ এখনও শেষ হয়নি। অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাবাস অথবা ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ৯ জানুয়ারি এক জার্নালিস্ট বন্ধুর সঙ্গে গাড়িতে করে ভুবনেশ্বর থেকে কটক যাওয়ার পথে গানপয়েন্টে প্রায় চার ঘন্টা নির্যাতন করা হয় অঞ্জনা মিশ্রকে। তখন থেকেই বিচারের আশায় লড়ছেন তিনি। বারেবারে হতাশ হলেও লড়াই ছাড়েননি তিনি।

অঞ্জনা বারেবারেই তাঁর অভিযোগে জানিয়েছিলেন, তাঁর ওপর হওয়া এই হামলার পিছনে জেবি পট্টনায়েক ও তাঁর কাছের মানুষ ইন্দ্রজিৎ রায়ের হাত রয়েছে। বিশেষ বিষয় হল আজ থেকে ২১ বছরেরও আগে দুই দোর্দন্ডপ্রতাপ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক মহিলা ধর্ষণের পিছনে রয়েছেন অভিযোগ এনে জনসমক্ষে আসছেন, এমন আগে কখনও হয়নি। এই মামলা পুরো ওড়িশা তথা ভারতকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এমনকি পরে একাধিকবার মামলা মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবও আসে অঞ্জনার কাছে। যদিও তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি।

এই ধর্ষণের অভিযোগে নড়ে গিয়েছিল দিল্লিও। ইন্দিরা গান্ধী জেবি পট্টনায়েককে সরিয়ে তাঁর জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী পদে বসান গিরিধর গামাংকে। অন্যদিকে ধর্ষণে অভিযুক্ত তিন জনের মধ্যে ২ জনকে ওই ঘটনার ১৭ দিনের মাথায় গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রায় ২১ বছর ধরে পালানোর পরে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধান অভিযুক্ত বিবেকানন্দ বিশওয়াল ওরফে বিবানকে মহারাষ্ট্রের পুণে থেকে গ্রেফতার করে ওড়িশা পুলিশ।

তীব্র লড়াইয়ের পর সাফল্য পাওয়ার প্রসঙ্গে অঞ্জনা মিশ্র জানিয়েছেন, দুই দশক কেটে গেলেও মহিলাদের জন্য এটা এখনও সহজ হয়নি। তাঁর কথায়, “বিচার প্রক্রিয়া সহজ না।” যদিও তিনি বলেছেন, হতাশ না হতে। তিনি বলেন, “আমি সবসময় বিশ্বাস করে এসেছি যে, আমি ন্যায়বিচারের দাবিদার এবং আমি সেটা পাবই।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।