পূজা মণ্ডলঃ ইচ্ছে ছিল গান শোনাবেন। কিন্তু সে সাধ পূরণ হল না। স্বপ্নের ব্যক্তিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গান শোনাতে এসে নিরাশ হয়েই ফিরতে হল কীর্তনিয়া শ্রীকান্ত মণ্ডলকে। তবে, সভা চলাকালীন মঞ্চের আশেপাশে গান গেয়ে বেরালেন। আর সভা শেষ হতে ভাঙা মঞ্চের নিচে ফিরতি জনতার সামনে গাইলেন ‘বন্দে মাতরম।‘

অগণিত জনতার সামনে মন খুলে বললেন নিজের ইচ্ছের কথা। কিন্তু ততক্ষণে সভা শেষ করে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়া বড়গাছিয়ার বাসিন্দা শ্রীকান্ত মণ্ডল। বয়স চল্লিশের কোটায়। পূর্বপুরুষসূত্রে হরিনাম সংকীর্তনটাই পেশা শ্রীকান্তের। সংসার করেন নি। আনুষ্ঠানিকভাবে কীর্তন গাইলেও শ্রীকান্তের আসল রোজগারের উৎস হাটে-বাজারে শাকসবজি, ফল-পাকুর বিক্রি করা। নিজের প্রতিভাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্দেশ্যে খোল বাজিয়ে গান গাওয়ার সাথে সাথেই রপ্ত করেছেন ব্যালেন্সের খেলা।

জল ভরা কলসীর উপর প্লেট পেতে দাঁড়িয়ে খোল বাজিয়ে গান গেয়ে থাকেন শ্রীকান্ত। মাথায় থাকে প্রদীপের থালা। কখনও দু’পায়ে কখনও বা এক পায়ে চলে ব্যালেন্সের খেলা। কখন বা হাতে খাঁড়া নিয়ে কৃষ্ণকালি রূপে গান গেয়ে থাকেন শ্রীকান্ত। এই দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় জমে যায় অচিরেই। শ্রীকান্তবাবু জানান, এই প্রথমবার একুশে জুলাই এসেছেন তিনি।

এর আগে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর নানান অনুষ্ঠানে গিয়েছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি। তাই ইচ্ছে ছিল, একুশে জুলাইয়ের সভায় এসে নেত্রীকে নিজের গান শোনাবেন তিনি। কিন্তু, সে আশা পূরণ হল না। সকাল আটটাতেই পৌঁছে যেতে চেয়েছিলেন সভাস্থলে। কিন্তু তা সম্ভব হয় নি। শ্রীকান্তের কথায়, “আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে মমতা দিদিকে গান শোনানো। এক পায়ে কলসীর উপর দাঁড়িয়ে খোল বাজিয়ে গান শোনাই মমতা দিদিকে।“