পূজা মণ্ডল, কলকাতা: রোজ রোজগার হয় বটে। কিন্তু গড়ে তা নব্বই থেকে একশো টাকা। তবে একুশে জুলাই এলে ওদের রোজগার বেড়ে যায় অনেকটাই। ওরা মানে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক সংগ্রহ করে যাদের পেটের ভাত জোগাড় হয়। তাই ওদের কাছে একুশ মানে পড়ে পাওয়া ষোলো আনা।

প্রত্যেক বছরই শহর কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে শহীদ দিবসের আয়োজন হয়। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই ১৩ জন যুব কর্মীর মৃত্যুর স্মৃতি স্মরণ করতে উক্ত দিনটিকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সরকার ক্ষমতায় আসার পর আরও সারম্বরে পালন করা হয়ে আসছে দিনটি।

কিন্তু সদ্য লোকসভা নির্বাচনের পরে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে তৃণমূল। রাজনৈতিক মহল থেকে পাড়ার চায়ের দোকান- চর্চা অন্তত এমনটাই। কিন্তু সেসব উপেক্ষা করে প্রথা মেনে এবছরও পালন করা হল শহীদ দিবস একুশে জুলাই। বিগত বছরের তুলনায় একুশে জুলাইকে ঘিরে লোকজনের ভিড় কম হয়েছে বলে তৃনমূলকে ব্যঙ্গ করতেও ছাড়ছেন না বিরোধীরা। তাদের মতে তৃণমূলের নৌকা এবার ডুবতে বসেছে। কিন্তু এসব উপেক্ষা করেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে পাওয়ার প্যাক ভাষণ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেছেন ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব।‘

একুশে জুলাইকে ঘিরে আগে থেকেই দলীয় কর্মীদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। সভামঞ্চ ঘিরে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। নির্দিষ্ট জায়গায় জায়গায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। সমর্থকদের জন্য খাবারের বন্দোবস্তও করা হয়েছিল প্রথা অনুযায়ী। ছিল পানীয় জলের সুবন্দোবস্ত। এসবের মাঝে ওরা অংশীদার নয় কোনভাবেই। কিন্তু আগত সমর্থকদের ভিড় অজান্তেই একুশে জুলাইয়ের অংশীদার করল ওদের।

ফেলে দেওয়া আবর্জনা ওদের জন্য আশীর্বাদ। একুশে নব্বই টাকা বেড়ে দাঁড়াল চারশোয়। তাই ওদের কাছে একুশ মানে পড়ে পাওয়া ষোলো আনা। রাস্তায় রাস্তায় প্লাস্টিক কুড়িয়ে বেড়ানো বিমলা- ছোটুদের কথায়, ”আমরা রোজ ভিক্ষা করি। ফুতপাতে থাকি। রাস্তায় পড়ে থাকা প্লাস্টিক কুড়িয়ে বেড়াই। এই দিনটা এলে আমাদের রোজগার অনেক বেড়ে যায়। মমতা জিন্দাবাদ।“