সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: সালটা ২০২০৷ করোনা ভাইরাসের গ্রাসে প্রায় গোটা বিশ্ব৷ বাদ যায়নি পশ্চিমবঙ্গও৷ কেমন ছিল করোনার প্রকোপ৷ রইল একনজরে৷ ২০২০ সালের মার্চ মাসে কলকাতায় প্রথম করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায়৷ ইংল্যান্ড ফেরত এক আমলা পুত্রের শরীরে করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়।

তারপর তাকে পাঠানো হয় বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে৷ সেখানে তার নমুনা পরীক্ষা করা হলে,রিপোর্ট পজিটিভ আসে৷ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বাংলায়৷ সূত্রের খবর,ওই আমলা পুত্রের ইংল্যান্ডে পার্টিতে ছিলেন কয়েকজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি৷ তাদের সংস্পর্শে আসার ফলেই সে সংক্রমিত হয়েছে৷

যদিও ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি ভারতে প্রথম করোনা রোগীর হদিশ মেলে কেরলে৷ পাশাপাশি মার্চ মাসেই রাজ্যে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্তের মৃত্যু হয়৷ দমদমের বাসিন্দা ৫৭ বছরের এক ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন আমরি হাসপাতালে৷ সেখানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান৷ করোনা ছেড়ে কথা বলেনি রাজ্যের নেতা মন্ত্রীদেরও৷

করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন দলের নেতা নেত্রীরা। এমনকি মৃত্যুও হয়েছে বেশ কয়েকজনের৷ আবার অনেকেই জয় করেছেন করোনাকে৷ মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু৷ বাংলায় তিনিই প্রথম মন্ত্রী যিনি করোনায় আক্রান্ত হন৷ প্রথমে তিনি বাড়িতেই আইসোলেশনে ছিলেন৷

পরে ডাক্তারের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হন৷ এবং করোনাকে জয় করে ফের কাজে যোগ দেন৷ এছাড়া শাসক দলের একাধিক নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রী করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ তাদের মধ্যে অধিকাংশই করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরেছেন৷

শুধু শাসক দলের নেতা নেত্রীরাই নয়, জুলাই মাসে করোনায় আক্রান্ত হন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়৷ সেপ্টেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হন বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পল৷ অক্টোবরে করোনায় ভাইরাসে আক্রান্ত হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ ওই মাসেই করোনা আক্রান্ত হন আরও দুই বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা এবং জয় বন্দ্যোপাধ্যায়৷

এরা প্রত্যেকেই করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরেছেন৷ রাজনৈতিক নেতা নেত্রী ছাড়াও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন সামনের সারির অনেক যোদ্ধা৷ এদের মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার,নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী,পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে শুরু করে কর্মীরা৷ আক্রান্তের পাশাপাশি অনেক যোদ্ধাই অসময়ে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন৷ অনেকে আবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন৷

এছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র,কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা সহ একাধিক পুলিশ আধিকারিক৷ অধিকাংশই করোনাকে জয় করে কাজে ফিরেছেন৷ অন্যদিকে করোনা আক্রান্ত হয়ে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের একাধিক আধিকারিক ও কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বাংলায়৷

এমনও দেখা গিয়েছে ,একদিনেই কলকাতা পুলিশের ৪৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷

এক নজরে ফিরে দেখা পশ্চিমবঙ্গের করোনার পরিসংখ্যান—- ০৪.০৩.২০–রাজ্যে করোনা টেস্টের জন্য প্রথম একজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়৷। ১৭.০৩.২০ – রাজ্যে প্রথম একজনের পজিটিভ ধরা পড়ে৷

১৮ বছরের এক তরুন৷ ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আসার পর ১৫ মার্চ তার করোনা টেস্ট করা হয়৷ সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে৷।। ২০.০৩.২০ – আরও একজনের করোনা পজিটিভ৷ ২২ বছরের এক যুবক৷

তিনিও ইংল্যান্ড থেকে আসার পর করোনা আক্রান্ত হন৷।। ২৩.০৩.২০ – রাজ্যে প্রথম মৃত্যু৷ ৫৭ বছরের এক ব্যক্তি৷।। ৩০.০৩.২০- রাজ্যে দ্বিতীয় জনের মৃত্যু সরকারি হাসপাতালে৷ ৪৪ বছরের এক মহিলা৷।। ০১.০৪.২০- এদিন নতুন করে ১০ জন আক্রান্ত৷ এই নিয়ে মোট ৩৭ জন আক্রান্ত৷ রাজ্যে মোট তিন জনের মৃত্যু৷ ।।

০১.০৫.২০- এদিন নতুন করে আক্রান্ত ৫৭ জন৷ একদিনে মৃত্যু ৮ জনের৷ এই পর্যন্ত হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছেন ৪,২৭৯ জন৷ ছাড়া পেয়েছেন ৪,০১৬ জন৷ ফলে ভর্তি ২৬০ জন৷।। ০৪.০৫.২০ – মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩৩ জনের৷

এদের মধ্যে কো মর্বিডিটির কারণে মৃত্যু হয়েছে ৭২ জনের৷ মোট আক্রান্ত ১,২৫৯ জন৷ অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটা ৯০৮ জন৷ ।। ০১.০৬.২০- করোনায় মৃত্যু ২৫৩ জনের৷ তাছাড়া কো মর্বিডিটির কারণে মৃত্যু হয়েছে আরও ৭২ জনের।

তার ফলে মোট মৃতের সংখ্যা ৩২৫ জন৷ মোট আক্রান্ত ৫,৭৭২ জন৷ তবে অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটা ৩,১৪১ জন৷ ।। ০১.০৭.২০- বাংলায় করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৬৮৩ জন৷

একদিনে ১৫ জন৷ মোট আক্রান্ত ১৯,১৭০ জন৷ অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটা ৫,৯৫৯ জন৷ ।। ০১.০৮.২০ – রাজ্যে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৬২৯ জন৷ একদিনে ৪৮ জন৷ মোট আক্রান্ত ৭২ হাজার ৭৭৭ জন৷ অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটা ২০,৬৩১ জন৷ ।। ২৩.০৮.২০- রাজ্যে মৃত্যু হার ২.০১ শতাংশ৷

চিকিৎসাধীন ৫,৯৩৬ জন৷ ।। ০১.০৯.২০-বাংলায় করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৩,২৮৩ জন৷ একদিনে ৫৫ জন৷ মোট আক্রান্ত ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৭২১ জন৷ অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটা ২৪,৮২২ জন৷

মৃত্যু হার ১.৯৮ শতাংশ ।। ০১.১০.২০- রাজ্যে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৫,০১৭ জন৷ একদিনে ৫৯ জন৷ মোট আক্রান্ত ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৩২৪ জন৷ অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটা ২৬,৫৫২ জন৷ মৃত্যু হার ১.৯৩ শতাংশ৷ ।।

০১.১১.২০- করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৬,৯০০ জন৷ একদিনে ৫৯ জন৷ মোট আক্রান্ত ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৬৫১ জন৷ অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটা ৩৬,৭৬১ জন৷ মৃত্যু হার ১.৮৩ শতাংশ৷ ।। ০১.১২.২০- করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৮,৪৭৬ জন৷ একদিনে ৫২ জন৷ মোট আক্রান্ত ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ৭৯৯ জন৷ অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটা ২৪,২২১ জন৷ মৃত্যু হার ১.৭৪ শতাংশ৷ ।।

২৭.১২.২০- বাংলায় করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৯,৫৯৮ জন৷ একদিনে ২৯ জন৷ মোট আক্রান্ত ৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৪৩ জন৷ অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটা ১৩,৭৭৪ জন৷ মৃত্যু হার ১.৭৫ শতাংশ৷ ২৫ মার্চ থেকে দেশ জুড়ে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷

তারপর দফায় দফায় আরও তিনবার লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়৷ শেষমেশ ১ জুন থেকে দেশে ধীরে ধীরে শুরু হয় আনলক পর্ব৷ তবে স্কুল-কলেজ বন্ধই রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়৷

বন্দিদশা কাটিয়ে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করে৷ কিন্তু ২০২১ এ বাংলাসহ বিশ্বের মানুষ ২০২০ কে ভুলতে চায়৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।