নয়াদিল্লি: গত ছ’বছরের মধ্যে ২০১৫ সালেই সবচেয়ে কম মাওবাদী হামলা হয়েছে। ২০১৬ সালের শুরুতেই ১০টি রাজ্যের উপর সমীক্ষা করে এমনই রিপোর্ট পেশ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তবে মাও হামলা তুলনামূলক কম হলেও নিরাপত্তায় ঘাটতি রাখতে চায় না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাই পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ মাও অধ্যুষিত ১০টি রাজ্যে এখনও ১ লক্ষ আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন রেখেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক দশকে মূলত ১০টি রাজ্যে মাওবাদী হামলার প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই ১০টি রাজ্য হল, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, বিহার, ঝাড়খন্ড, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং তেলেঙ্গনা। এই সমস্ত রাজ্যগুলিতে গত ছ’বছরের মাও হামলার সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, তুলনামূলকভাবে ২০১৫ সালে কম হামলা হয়েছে। এই ১০টি রাজ্যে গত বছর মোট ২২৬টি মাওবাদী হামলা হয়েছে এবং ১ হাজার ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যেখানে ২০১৪ সালে ১ হাজার ৯১টি হামলা হয়েছিল এবং ৩১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে রিপোর্ট পেশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এছাড়া ২০১০ সালে ২ হাজার ২১৩ টি মাওবাদী হামলায় ১ হাজার ৫ জন এবং ২০১১ সালে ১ হাজার ৭৬০টি হামলায় ৬১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

মাওবাদী হামলার পরিমাণ কম হওয়ার পাশাপাশি মাওবাদীদের অস্ত্র বাজেয়াপ্তের পরিমাণ বেড়েছে বলেও রিপোর্টে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এই রিপোর্ট অনুসারে, গত বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে সেনা জওয়ানেরা মাওবাদীদের থেকে ৭২৩টি অস্ত্র উদ্ধার করেছিল এবং ১৮টি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছিল। এছাড়া মাওবাদীদের প্রশিক্ষণ শিবিরে হানা দিয়ে আরও ১৮টি অস্ত্র উদ্ধার করেছিল। অর্থাৎ মোট ৭৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। যেখানে ২০১৪ সালে ৬৪০টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। যার মধ্যে সেনা জওয়ানেরা উদ্ধার করেছিল ৫৪৮টি অস্ত্র এবং মাওবাদীদের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল ৫৮টি অস্ত্র। আর প্রশিক্ষণ শিবির থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৩৪টি অস্ত্র। তাই গত বছর তুলনামূলকভাবে বেশি মাও অস্ত্র উদ্ধার এবং হামলার সংখ্যা কম হওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের বড় সাফল্য বলে দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের।