২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে বামফ্রন্ট তাদের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নতুন মুখ নিয়ে এল। জ্য়োতি বসুর জায়গায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে বসান হল মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে। ১৯৭৭ সাল থেকে রাজ্য ক্ষমতায় বামফ্রন্ট সরকার । আর সেদিন থেকে এ রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। ১৯৭৭ সালের পর ১৯৮২, ১৯৮৭ ১৯৯১ , ১৯৯৬ সালে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এবং বামেরা ক্ষমতায় থেকেছে । বয়স এবং শারীরিক কারণে জ্যোতি বসু দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছিলেন। দল অবশেষে ঠিক করল এবার মুখ্যমন্ত্রী পদে নতুন মুখ হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে তুলে ধরা হবে । ফলে ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে দীর্ঘ ২৩ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর অবসর নিলেন জ্যোতি বসু। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তবে ভোটের কিছু দিন আগে সিপিএম পার্টিতে ভাঙন এল। সৈফুদ্দিন চৌধুরী নেতৃত্বে নতুন দল তৈরি হল পিডিএস।

এদিকে ২০০১ সালে বিধানসভা ভোটের কয়েক বছর আগে রাজ্য কংগ্রেসে ভাঙন ধরেছিল । কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় আলাদা দল গড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেসে যারা ছিলেন তাদের সিপিএমে বি-টিম বলে কটাক্ষ করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তিনিই প্রকৃত শাসক সিপিএমের বিরোধী বলে জনগণের কাছে প্রচার করছিলেন। তবে সেই সময় তিনি নতুন দল গড়ার পাশাপাশি বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিক হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে তিনি এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোট বাঁধলেন কংগ্রেসের সঙ্গে ।

বামেদের হারাতে ভোটের আগে রীতিমতো বাম বিরোধী হাওয়া তুললেন মমতা। ওই সময় দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার ফলে বাম শিবিরে বেশ কিছু বেনোজল ঢুকেছে।শিল্পায়ন হয়নি, অনুন্নয়ন অনগ্রসরতার ছাপ । ক্ষোভ বাড়ছে জন সাধারণের মধ্যে। সেসময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বামেদের স্লোগান উঠল-বামফ্রন্টের বিকল্প উন্নততর বামফ্রন্ট। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় স্লোগান তুললেন-হয় এবার নয় নেভার।

শাসক বিরোধী হাওয়া তুললেও শেষমেশ নির্বাচনে বামফ্রন্ট ভালমতোই জয় পেল। ২৯৪টি আসনের মধ্যে বামফ্রন্ট পেল ১৯৬টি। সিপিএম একাই ১৪৩টি আসন পায়।তাছাড়া সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপি পেল যথাক্রমে ৭,২৫ এবং ১৭টি আসন। অন্যদিকে টিএমসি ৬০ এবং কংগ্রেস ২৬টি আসন পায়। ফের মুখ্য়মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বিরোধী দলনেতা হলেন তৃণমূলের পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্য়ায়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.