চেন্নাই: নদীর পাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লম্বাকৃতির সাদা কাগজ৷ সেই কাগজ দেখতে উৎসাহী মানুষের ভিড়৷ কেউ কেউ সেই কাগজ কুড়িয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা লাগান৷ একটু বিশদে খোঁজ নিতে জানা গেল ওই সাদা কাগজ আসলে আধার কার্ড৷ নদীর পাড়ে কেউ বা কারা এভাবে ফেলে রেখে দিয়ে গিয়েছে৷

নদীর পাড়ে আধার কার্ড খুঁজে পাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে৷ আশেপাশের মানুষ সেখানে ভিড় করেন৷ ঘটনাটি তামিলনাড়ুর তিরুভারুর জেলার৷ এই জেলার মুল্লিয়ারু নদীর পাড় থেকে আধার কার্ড খুঁজে পাওয়া যায়৷ তাও দশ-কুড়িটা নয়৷ সংখ্যাটা দুই হাজার৷

আধার খুবই গোপন একটি ব্যবস্থা। এতে ব্যক্তির নামে একটি নম্বর যেমন রয়েছে তেমনই বায়োমেট্রিক ডিটেলসও রয়েছে। এই তথ্য ভুল হাতে চলে গেলে সেখান থেকে বড়সড় বিপদ ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়৷ ফলে প্রশ্ন উঠছে কাদের গাফিলতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে? এক্ষেত্রে কাঠগড়ায় স্থানীয় পোস্ট অফিসের ভূমিকা৷

প্রাথমিক তদন্তে পোস্ট অফিসের গাফিলতি ধরা পড়েছে৷ এই আধার কার্ড যেখানে পৌঁছনোর কথা ছিল সেখানে না গিয়ে নদীর পাড়ে পৌঁছে যায়৷ স্থানীয় বাচ্চারা খেলতে গিয়ে বস্তার মধ্যে আধার কার্ডগুলি দেখতে পায়৷ লোকমুখে চাউর হতে আশেপাশের মানুষ সেখানে জড়ো হয়৷ বেশ কয়েকজন ওই পাড় থেকে আধার কার্ড খুঁজে পান৷ এবং সঙ্গে নিয়ে চলে যান৷

খবর পেয়ে সেখানে দৌড় লাগান রাজস্ব দফতরের আধিকারিকরা৷ পরে জানা যায়, এই কার্ডগুলি স্থানীয় গ্রামবাসীদের৷ তাদের হাতে পৌঁছে দিতে পোস্ট অফিসে পাঠানো হয় সেগুলি৷ আধিকারিকরা জানান, দু’বছর আগে এগুলি ছাপা হয়৷ তবে কার্ডগুলি পেতে এত সময় লাগল কেন তার কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি৷ এদিকে সরকারি নিয়ম আধার কার্ড থাকলে সরকারি নানা প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পাবেন নাগরিকরা৷ ফলে এই দু’বছর তারা সেই সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন৷ এই ঘটনায় স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷