করাচি : মন্দিরের বয়স ২০০ বছর। প্রাচীন লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরে নিত্যসেবা হয়। স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের কাছে অতি পবিত্র স্থান এটি। পাকিস্তানের করাচি বন্দরের কাছে জেটি ব্রিজে অবস্থিত এই মন্দিরই নিজেদের উৎসব পালন করেন এলাকার হিন্দুরা। এমনকী দাহকাজও হয় এখানে।

তবে এখানেই শেষ নয়। এই মন্দির পরোক্ষ ভাবে হলেও পেটের ভাত যোগাচ্ছে এলাকার মুসলিম যুবকদের। পাকিস্তান হিন্দু কাউন্সিলের সদস্য রমেশ ভনকওয়ানি জানান, এই মন্দিরটি করাচির একটি খাঁড়ির সামনে অবস্থিত। যা আরব সাগরের অংশ। সেখানে শেষকৃত্যের কাজ হয়। এটাই একমাত্র মন্দির, যার পাশে সাগর রয়েছে। এই জলে বিভিন্ন উৎসবের পর বিসর্জন দেন হিন্দুরা। তাতে নানা দামী সামগ্রীও থাকে।

এলাকার মুসলিম যুবকরা সেই দামী জিনিস তুলে আনেন খাঁড়ি থেকে। পরে সেগুলি বিক্রি করে আয় করেন। এভাবেই তাঁরা পেয়েছে সোনার গয়না, রূপোর কয়েন, টাকা পয়সা ও অন্যান্য সামগ্রি। এজন্য অনেকক্ষণ ধরে জলের তলায় ডুব দিয়ে থাকতে হয় তাঁদের। খোঁজ চলে আয় করার উপায়ের।

এই কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তারা, যাতে দীর্ঘক্ষণ শ্বাস আটকে জলের তলায় থাকা যায়। মন্দির কর্তৃপক্ষ তাদের কিছু না বললেও, শেষকৃত্য করতে আসা লোকজন আপত্তি জানান। এতে কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকে জল থেকে সামগ্রী তোলা। ফের চালু হয়। সারাদিন ধরে এই কাজ করে চলে মুসলিম যুবকরা।

তবে করোনা ভাইরাসের জেরে বেশ পেটে টান পড়েছে এই যুবকদের। কেউই প্রায় আসছেন না মন্দিরে। পুজো হচ্ছে কোনও রকমে, সেভাবে দান সামগ্রী বিসর্জন দিচ্ছেন না কেউ। ফলে ডুব দিয়েও কিছু মিলছে না। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছে এলাকার যুবকরা।

আট বছর আগে এই মন্দির ভেঙে ফেলার অনুমতি দেয়নি সিন্ধ আদালত। বন্দর কর্তৃপক্ষ মন্দিরটি বাঁচিয়ে রেখেই নিজেদের নির্মাণ কাজ করে। সরকারি হিসেব বলছে পাকিস্তানে আপাতত ৭৫ লক্ষ হিন্দু রয়েছেন। যদিও কাউন্সিলের মত, দেশে ৯০ লক্ষ হিন্দু রয়েছেন। সিন্ধ প্রদেশেই বেশিরভাগ হিন্দু থাকেন।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV