নয়াদিল্লি: বালাকোটে জঙ্গি মৃত্যুর কথা এখনও অস্বীকার করে যাচ্ছে পাকিস্তান। বালাকোটে নাকি শুধুই গাছের ক্ষতি হয়েছে। এমনটাই দাবি পাক প্রশাসনের। তবে সদ্য ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে মুখোশ খুলছে ইমরান খান সরকারের।

একটু মন দিয়ে শুনলেই বোঝা যাচ্ছে বালাকোটে ২০০ জঙ্গির মৃত্যুর কথাই বলছে পাক সেনা।

আমেরিকায় রয়েছেন গিলগিটের এক মানবাধিকার কর্মী। তিনি একটি ভিডিও ট্যুইট করেছেন। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে বালাকোটে ভারতের এয়ার স্ট্রাইকে অন্তত ২০০ জনের নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিচ্ছে পাকিস্তানি সেনা।

গিলগিটের ওই মানবাধিকার কর্মী হাসনান সেরিং ভিডিওটি ট্যুইট করে লিখেছেন, ”বালাকোটে ভারতের এয়ার স্ট্রাইকে ২০০ জনের নিহত হওয়ার খবর স্বীকার করে নিচ্ছেন পাকিস্তানি সেনার আধিকারিক। পাকিস্তানের সরকারের পক্ষ নিয়ে তারা শত্রুর বিরুদ্ধে জেহাদ করছিল। তাই ওপরওয়ালার কাছে তারা বিশেষ মর্যাদা পাবে।” ভিইওটিতে শোনা যাচ্ছে উর্দি পরা লোকজন বলছে যে ২০০ জন শহিদ হয়েছে, খুব ভাগ্যবান যে তারা আল্লার কাছে চলে গিয়েছে। শিশুদের শান্তনা দিতেও দেখা যচ্ছ ওই ভিডিওতে।

সংবাদসংস্থা এএনআই-কে শেরিং জানিয়েছেন, ভিডিয়োর সত্যতা নিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে বালাকোটে কিছু একটা হচ্ছে। আর পাকিস্তান অনেক কিছু লুকিয়ে রাখছে।

শেরিংয়ের প্রশ্ন, পাকিস্তান দাবি করছে বালাকোটের জঙ্গলে হামলা চালিয়েছে ভারত। নষ্ট হয়েছে গাছ। তাহলে ওই এলাকা কেন ঘিরে রাখা হয়েছে? এতদিন ধরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সেখানে কেন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে?

শেরিংয়ের দাবি, পাকিস্তানের কিছু উর্দু সংবাদমাধ্যমে মৃতদেহ সরানোর বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদও বালাকোটে নিজেদের মাদ্রাসার অস্তিত্ব স্বীকার করে নিয়েছিল। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে বালাকোট ভারতের হামলা সফল হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হানা হয়। শহিদ হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। হামলার দায় স্বীকার করে নেয় পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জইশ-ই-মহম্মদ। পুলওয়ামা হামলার ১২ দিন পর প্রত্যাঘাত করে ভারত। বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক করে বায়ুসেনা।

এর আগে রয়টার্সের সাংবাদিকদের ওই জায়গায় যেতে বাধা দেওয়া হয়। প্রত্যেকবারই ওই মাদ্রাসায় যাওয়ার রাস্তা ছিল বন্ধ। এলাকার লোকজন শুধু জানায় যে সেখানে একটি মাদ্রাসা আছে যা একসময় জইশের সদস্যরা চালাত। এটিকেই জইশের ঘাঁটি বলে চিহ্নিত করে এয়ার স্ট্রাইক করে ভারত।

নিরাপত্তার কারণেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করে পাকিস্তানের প্রশাসন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকেই জায়গাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। পাকিস্তান বারবার দাবি করছে ওই এলাকায় ভারতের এয়ারস্ট্রাইকে নাকি কোনও ক্ষতিই হয়নি। খারাপ আবহাওয়ার কারণ দেখিয়ে পরপর দু’বার সাংবাদিকদের যাওয়া আটকে দিয়েছে পাক সরকার। সম্প্রতি জানানো হয়েছে যে নিরাপত্তার খাতিরে আরও কয়েকদিন যাওয়া যাবে না।

এই সেই ভাইরাল হওয়া ভিডিও। kolkata24x7 এই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করে দেখেনি।