বেঙ্গালুরু: মহিলাদের স্বপ্নের উড়ান দেশের আকাশ ছুঁয়েছে অনেকদিন। আবার কবে জন্ম নেবে মহাকাশ থেকে ফিরে না আসা কল্পনা চাওলা, সেই অপেক্ষা তো থাকবেই। তবে এবার কার্যত চাঁদের দিকে হাত বাড়ানোর সাহসিকতা দেখালেন দুই ভারতীয় মহিলা।

মঙ্গল অভিযানের সময়ই মিশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন বেশ কয়েকজন মহিলা বিজ্ঞানী। তবে এবার প্রথম দুই মহিলার নেতৃত্বেই উড়ে যাবে দেশের দ্বিতীয় চন্দ্রযান।

অভিযানটি সফল হলে বিশ্বের চারটি দেশের মধ্যে একটি হবে ভারত। রোভার প্রজ্ঞান চাঁদের এমন জায়গায় পৌঁছে যাবে যেখানে আগে পৌঁছয়নি কোনও দেশ। আর প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার এই অভিযানে মূলে আছেন দুই মহিলা বিজ্ঞানী। চন্দ্রযান-২-এর মিশন ডিরেক্টরের পদে আছেন ‘রকেট ওম্যান’ রিতু কারিদহাল শ্রীবাস্তব আর প্রজেক্ট ডিরেক্টরের পদে আছেন বনিতা এম। এঁরাই ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্রযানের দুই মূল কান্ডারি।

মুথাইয়া বণিতা

চন্দ্রযান-২-এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর বণিতা এমকে ছোট থেকেই আকর্ষণ করত মহাকাশের রহস্য। তিনিই ভারতের রকেট ওম্যান। তামিলনাড়ুর মেধাবী ছাত্রী বণিতা ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক। ২০০৬ সালে তিনি অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার ‘সেরা মহিলা বিজ্ঞানী’র পুরস্কার পান। চন্দ্রযান-২-এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবে হার্ডওয়্যারের ডেভলপমেন্ট এবং অন্যান্য বিষয়ে নেতৃত্ব দেবেন বণিতা।

রিতু কারিদহাল শ্রীবাস্তব

চন্দ্রায়ন-২-এর নেপথ্যে মূল ব্যক্তিত্ব রিতু কারিদহাল। তিনি এই অভিযানের ডিরেক্টের চন্দ্রযান ছাড়াও ইসরোর মার্স অরবিটার মিশন)-এর ডেপুটি অপারেশন্স ডিরেক্টর ছিলেন তিনি।

লখনউতে মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠেন রিতু। ছোট থেকেই মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী তিনি। লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক রিতু। এর পরে গেট পরীক্ষা দেন তিনি। গেটের ফল ভাল হওয়ায় ইন্ডিয়ান ইন্সটিউট অফ সায়েন্সে পড়ার সুযোগ পান তিনি। সেখানে এয়ারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মাস্টার ডিগ্রি করেন তিনি।

পিএইচডি করতে করতেই ডাক পান ইসরোয় পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ-এর জন্য। এর পর ইসরোতে যোগ দেন তিনি। মঙ্গল অভিযানে স্পেসক্রাফটের অটোনমির ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন মূল দায়িত্বে। শুধু তাই নয়। চন্দ্রযান-১ -এর মূল টিমেও গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন রিতু। চন্দ্রযান-২-এর প্রতিটি কার্যাবলী হবে তাঁর সতর্ক নজরে। ২০০৭-এ এপিজে আবদুল কালামের হাত থেকে ইসরোর ইয়ং সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড-র পুরস্কারও পান রিতু। আজ ‘রকেট ওম্যান অফ ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত তিনি।

ভারতে যখন মাঝরাত, তখনই মহাকাশের দিকে ছুটে যাবে চন্দ্রযান। ঠিক ২টো ৫১ মিনিটে। শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্টডাউন্ড। অভিযানের সাফল্য কামনা করছে গোটা দেশ।