বারাকপুর: রক্ষী বিহীন এটিএমে প্রবেশ করে প্রথমে কার্ড সোয়াইপ। তারপরে স্বাভাবিক নিয়মে সবকিছু করার পর পাওয়ার অফ। অল্প সময়ের মধ্যেই উধাও লক্ষ লক্ষ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতি চালানোর পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল দুই দুষ্কৃতী।

টাকা তোলা হলেও বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়ে না অ্যাকাউন্টে। যার ফলে জানা যায় না কে টাকা তুলছে। একইসঙ্গে পাওয়ার অফ করে দেওয়ায় এবং সিসিটিভি বিকল করে দেওয়ায় পাওয়া যায় না দুষ্কৃতীর ছবি। এভাবেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে চলছিল জালিয়াতি। এই দুষ্কৃতীদের ধরতে কালঘাম ছুটে গিয়েছিল পুলিশের।

বিলম্বে হলেও এল সাফল্য। রহস্যের কিনাড়া হল দুষ্কৃতীদের ফেলে রাখা সূত্র ধরেই। বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে টিটাগড়, দক্ষিণেশ্বর, বরানগরের টবিন রোডসহ একাধিক জায়গায় বিভিন্ন এটিএম থেকে টাকা লুট হওয়ার অভিযোগ জমা পড়ছিল। তদন্তে জানা যায় যে এটিএম থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল সব জায়গায় একই। এরপরে খতিয়ে দেখা শুরু হয় সিসিটিভি ফুটেজ। কিন্তু, সেই ফুটেজও পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রযুক্তির দৌলতে সেগুলিও মুছে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল দুষ্কৃতীরা। যদিও দক্ষিণেশ্বরের একটি এটিএমের সিসিটিভি ফুটেজ মুছতে পারেনি দুষ্কৃতীরা। আর সেই সূত্র ধরেই দুষ্কৃতীদের ধরে ফেলে বারাকপুর পুলিশ।

ধৃত দুই ব্যক্তির নাম অশোক ভার্মা এবং নিরঞ্জন মিশ্র। দু’জনেই উত্তর প্রদেশের কানপুরের বাসিন্দা। দীর্ঘ ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে তারা কলকাতার শহরতলি এলাকায় আসত প্রযুক্তির সাহায্যে এটিএম লুট করতে। এই কারবারে ধৃতদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (ডিডি) অজয় ঠাকুর।