স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: নোট বাতিলের পর জাল নোটের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল বিভিন্ন মহলে৷ কালো টাকা থেকে দেশকে মুক্তির কারণেই ২০০, ৫০০ ও ২০০০-এর নয়া নোট এসেছিল বাজারে৷ যাতে কোনও ভাবেই আর জাল নোটের বেড়াজালে পড়তে না হয় দেশকে৷

তবে দিন যত এগিয়েছে প্রতিশ্রুতিও মলিন হতে বসেছে৷ আর এবার সেই জাল নোট চক্রের হদিশ মিলল খোদ বরানগরে৷ উত্তর ২৪ পরগনার বরানগর থানার অন্তর্গত বরানগর পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎচন্দ্র ধর রোডে হদিশ মিলল জাল নোট চক্রের।

আরও পড়ুন: ভুট্টা ক্ষেতে হাতির তাণ্ডবে মৃত ১

বরানগর থানার পুলিশ ওই এলাকা থেকে গ্রেফতার করল জাল নোট ছাপাইতে অভিযুক্ত দুই স্থানীয় যুবককে। ধৃত দুই যুবকের নাম কৃষ্ণ পোড়ে এবং অর্ঘ্য সাহা। পুলিশ তাদের শরৎচন্দ্র ধর লেন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত দুই অভিযুক্তের কাছ থেকে ৩২ টি ২০০ টাকার জাল নোট বাজেয়াপ্ত করেছে বরানগর থানার পুলিশ।

পুলিশ ধৃত কৃষ্ণর বাড়ি থেকে একটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার, প্রচুর পরিমানে জাল টাকা তৈরীর জন্য ব্যাবহৃত অস্ট্রেলিয়ান কাগজ ও অন্যান্য বেআইনি প্রচুর নথিপত্র উদ্ধার করেছে । ধৃত দুই যুবক একত্রে জাল নোট ছাপানোর কাজ করত বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি দোকানে ২০০ টাকার জাল নোটের বিনিময় জিনিস কিনতে যায় কৃষ্ণ। সেই সময় ওই দোকানদার বুঝতে পারেন তাকে যে ২০০ টাকার নোটটি দেওয়া হয়েছে সেটি জাল। এরপরই তিনি ওই যুবককে আটকে রেখে বরানগর থানার পুলিশকে খবর দেন।

আরও পড়ুন: বাকি বিয়েটা সেরে ফেললেন ‘রানি রাসমণি’-এর আনন্দময়ী

পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে শরৎচন্দ্র রোডে এসে কৃষ্ণকে গ্রেফতার করে। তাকে জেরা করে পুলিশ আরও এক অভিযুক্তের নাম জানতে পারে৷ এরপরই অর্ঘ্য সাহা নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের খবর, কৃষ্ণ পোড়ের বাবা অনন্ত পোড়ে পেশায় সবজি ব্যবসায়ী৷ ছেলের পড়াশোনার জন্য ছেলেকে বাড়িতে কম্পিউটার কিনে দিয়েছিলেন অনন্ত পোড়ে। সেই কম্পিউটারকেই জাল টাকা তৈরির মেশিন হিসেবে কাজে লাগিয়েছিল কৃষ্ণ।

আরও পড়ুন: নির্দলের প্রার্থী তৃণমূল উপপ্রধানের স্বামী, ফেলে মার দুষ্কৃতীদের

ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে জেরা করেছে বরানগর থানার পুলিশ। এদিকে শনিবার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জাল নোট কারবারি কৃষ্ণ পোড়ের বাড়ির সামনে ভিড় জমায় কৌতুহলী জনতা। ঘটনাস্থলে আসেন বরানগর পুরসভার স্থানীয় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অঞ্জন পাল।

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। বরানগর শহরের নাম আজকে বদনাম হল। আইন আইনের পথে চলবে। দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিৎ। বরানগরের বুকে এই ঘটনা ঘটল ভেবে লজ্জিত বোধ করছি।’ বরানগর শরৎচন্দ্র ধর রোডের এই ঘটনায় দুই অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন: লালকেল্লা নিয়ে মোদী সরকারকে আক্রমণ মমতার

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।