গুয়াহাটি: আর মাস দেড়েক পরেই ঘোষণা করা হবে নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা। এরই মাঝে প্রকাশ্যে এল মারাত্মক অভিযোগ।

নাগরিকপঞ্জির তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার জন্য ঘুষ নিতে ধরা পড়ল দুই এনআরসি আধিকারিক। টাকা নেওয়ার সময়ে হাতেনারতে ধরা হয় সৈয়দ শাহজাহান নামের এক আধিকারিককে। একই সঙ্গে রাহুল পরশার নামের আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার জন্য সমগ্র অসম রাজ্য জুড়ে এনআরসি সেবাকেন্দ্র খোলা হয়েছে। গুয়াহাটির গণেশঘুরির দিসপুরের সেবাকেন্দ্রের আধিকারিক সৈয়দ শাহজাহান। নাগরিকপঞ্জির তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার জন্য এক মহিলার থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছিল সে।

অভিযোগকারী ওই মহিলার নাম কাজরি ঘোষ দত্ত। নাগরিকপঞ্জির তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন কাজরিদেবী। সেই ত্রুটি সংশোধনের জন্যেই দিসপুরের ওই সেবাকেন্দ্রে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ত্রুটি সংশোধন করে চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিল এনআরসি আধিকারিক সৈয়দ শাহজাহান।

গত বছরের শুরুতে প্রথম এবং জুলাই মাসের অন্তিম দিনে প্রকাশিত হয়েছে ওই রাজ্যের নাগরিকপঞ্জির চুড়ান্ত খসড়া তালিকা। সেই চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গিয়েছিল যে আবেদন করা তিন কোটি ২৯ লক্ষ মানুষের মধ্যে নাম নেই ৪০ লক্ষের। যা নিয়ে শুরু হয় প্রবল বিতর্ক।

অসমের নাগরিকপঞ্জির উত্তাপ এসে পরে বাংলায়। দেসের অন্যান্য জায়গাতেও যা ছেয়ে যায়। বিজেপির পরিচালিত কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বাঙালি খেদাও অভিযানা চালানোর অভিযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবৈধ নাগরিকদের বিদায় করার জন্যেই এই তালিকা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিজেপি।

সেই তালিকায় নাম তোলার জন্য খোদ এনআসি আধিকারিকের ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি খুব সহজভাবে নিতে পারেননি কাজরি ঘোষ দত্ত। তিনি অসমের দুর্নীতি দমন শাখায় অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগ অনুযায়ী আসরে নামে ওই রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার কর্তারা। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে টাকা দেওয়ার দিন স্থির হয়। এদিন সকাল ১১টা নাগাদ কাজরিদেবীর থেকে টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা হয় ৪৮ বছর বয়সী এনআরসি কর্তা সৈয়দকে।

এই সমগ্র কারচুপির পিছনে আরও একজন জড়িত ছিল। সেই ব্যক্তিও ওই একই সেবাকেন্দ্রে কর্মরত। ২৭ বছরের সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি হচ্ছে রাহুল। এদিন তাকেও গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ।

আগামি মাসের ৩১ তারিখে প্রকাশিত হবে অসমের নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা। এই মুহূর্তে সেই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।