নয়াদিল্লি: ভারতীয় গুপ্তচর হিসাবে পাকিস্তানে এখনও বন্দি রয়েছেন কুলভূষণ যাদব। এবারে দু’জন ভারতীয় নাগরিক ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তান চলে যাওয়ায় পাক প্রশাসন তাঁদের আটকে রেখেছে বলে মনে করছে ভারত সরকার। এই সংক্রান্ত বেশ কিছু চিঠি পাক হাই কমিশনে পাঠানো হলেও তার কোনও উত্তর আসেনি বলে সোমবার দাবি করেন ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের এক আধিকারিক।

সোমবারই ধৃত দুই ভারতীয়কে দেখা যায় পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে।

এখানেই আশঙ্কাপ্রকাশ করছেন ভারতীয় কূটনীতিবিদরা। এমনিতেই পাক ভূখণ্ডে ধৃত ভারতীয় নাগরিক কুলভূষণ যাদবকে ২০১৬-এর ৩ মার্চ গ্রেফতার করে পাক প্রশাসন। এরপরেই কূটনৈতিক টানাপড়েনের মাঝখানেই আন্তর্জাতিক স্তরে এই ঘটনা নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে বারংবার সরব হয় ইসলামাবাদ। নতুন করে পাকিস্তানে দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করার বিষয়টি নিয়েও ভারতের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস সৃষ্টির’ অভিযোগ আনতে পারে ইসলামাবাদ।

গত ২৩ মে ভারতীয় হাই কমিশনের তরফ থেকে পাক বিদেশ মন্ত্রককে জানানো হয় বিশাখাপত্তনম নিবাসী প্রশান্ত ভাইন্দম সীমান্ত পেরোতে গিয়ে সম্ভবত পাকিস্তানের পাক রেঞ্জার্সদের হাতে ধরা পড়েছেন। কিন্তু এই বিষয়ে নীরব থেকেছে পাক বিদেশমন্ত্রক।

ঠিক সেইভাবেই ১৩ নভেম্বর পাক ভূখণ্ডে ধৃত তিন সম্ভাব্য ভারতীয়-(রামদাস,বারি লাল, এবং জাসসি সিং)-এর সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকদের সাক্ষাতের বিষয়টির ব্যাপারেও নিরুত্তর থাকে পাক প্রশাসন। ভারতীয় হাই কমিশনের তরফ থেকে চিঠি দিলেও তার কোনও জবাব দেয়নি ইসলামাবাদ।

গত সপ্তাহে পাক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লাল এবং ভাইন্দমকে তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পাক প্রশাসন।

এখানেই শেষ নয়। আরও একটি রোমহর্ষক ঘটনা সামনে এনেছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। আফগানিস্তানের কাবুলে একটি কনসালটেন্সি সংস্থায় কর্মরত ভারতীয় নাগরিক গোবিন্দ পট্টনায়ক দুজ্ঞাভালাসাকে ১৭ নভেম্বর ভারতে ফিরিয়ে আনেন ভারতীয় নিরাপত্তা আধিকারিকরা। গোপন সূত্রে খবর মেলে গোবিন্দকে অপহরণ করে তাঁকে ‘জঙ্গি’ হিসাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাইছে পাকিস্তান এবং চিন। এই ষড়যন্ত্রের কথা জানার পরেই তড়িঘড়ি গোবিন্দকে ভারতে ফেরান গোয়েন্দারা।

বিশ্বে জঙ্গিদের ‘আঁতুড়ঘর’ বলে পরিচিত পাকিস্তান। আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে সারা পৃথিবী তন্ন তন্ন করে খুঁজে সব শেষে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদেই তাঁর সন্ধান পায় আমেরিকা। শুধু লাদেনই নয় দাউদ ইব্রাহিম, হাফিজ সঈদ-সহ বিশ্বের তাবড় জঙ্গি নেতা পাক নাগরিক। বিশ্ব দরবারে ‘জঙ্গি দেশ’ এর তকমা ঘোচাতেই ধৃত ভারতীয়দের এবারে কূটনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারে ইসলামাবাদ। এই ঘটনাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ভারতীয় কূটনীতিবিদরা।