পূজা মণ্ডল, কলকাতা : জল ঘোলা হওয়ার আগেই মুখ খুলল সরকার। ফণী এবং গরমের ছুটি নিয়ে ক্লাস সাস্পেনশনের বিষয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছিল শিক্ষক মহলে। শিক্ষকদের বক্তব্য ছিল, যদি তাঁদের স্কুলে যেতেও হয় তাহলে পড়ুয়ারা না থাকলে তাঁদের স্কুলে গিয়ে লাভটা কি! অর্থাৎ মোদ্দা কথা হল, যদি ছাত্রই না থাকল তাহলে আর মাস্টাররা স্কুলে গিয়ে কি করবে! এবিষয়ে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছিল বিতর্ক।

তাই জল ঘোলা না করে তড়িঘড়ি রাজ্য সরকার জানিয়ে দিল, আগামী ২ দিন সাস্পেনশন নয়, ছুটি ঘোষণা করা হবে রাজ্যের স্কুলগুলির জন্য। অর্থাৎ এই দুইদিন পড়ুয়াদের পাশাপাশি ছুটি থাকবে শিক্ষকদেরও। এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং সামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের তরফ থেকে।

জানান হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলিতে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। সেই কারণে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, হুগলী, কলকাতার স্কুলগুলি সম্পূর্ণভাবে ছুটি থাকবে। অর্থাৎ সব জেলায় নয়, শুধুমাত্র উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেই এই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্য়প্রাপ্ত স্কুলগুলিতে আগামিকাল অর্থাৎ ৩ মে থেকে ক্লাস সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের আছড়ে পরতে চলা ঘূর্ণিঝড় ফণী এবং সেই সঙ্গে গরমের ছুটি বর্ধিত করে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত স্কুলগুলিতে ক্লাস সাসপেন্ড করার কথা বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয়েছে বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে। হাতে প্রায় ২ মাসের ছুটি মেলায় আনন্দের আবহ পড়ুয়া মহলে। কিন্তু বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের জারি করা এই বিজ্ঞপিতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল শিক্ষক মহলে। তাঁরা বুঝে উঠে পারছিলেন না, তাঁদের স্কুলে আসতে হবে কি না ! এই নিয়েই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল শিক্ষক মহলের অন্দরে।

তবে বিষয় হল, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দুদিন ছুটি পেলেও এতদিন গরমের জন্য ক্লাস সাসপেন্ড রাখা নিয়েও অসন্তুষ্ট শিক্ষকরা। তাঁদের মতে এটি বাৎসরিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সে বিষয়ে শিক্ষকদের তোলা প্রশ্নে এখনও নীরব রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। এই দুটি দিনের ছুটি কি প্রশমিত করতে পারবে শিক্ষকদের প্রশ্ন!