তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: চার দিন নয়। পুজো এখানে দু’দিনে। কয়েক শতক ধরে এই প্রথা মেনেই পুজো চলে আসছে বাঁকুড়ার ইন্দাসের আকুই গ্রামের সেন পরিবারে।

রীতি মেনে নবমী-দশমী এই দু’দিন দেবী দুর্গা পুজিতা হন সেন বাড়িতে। নবমীর সকালে পুকুর থেকে শোভাযাত্রা সহকারে মঙ্গল ঘট আনা হয়। তারপর মন্দিরে সেই ঘট স্থাপন করে চলে দেবী আরাধনা। এখানে কোনও মূর্তি আনা হয়না।

আরও পড়ুন: নবমীতে ‘বাণিজ্য যাত্রা’ বালুরঘাটের জমিদারদের

সেন বাড়ির পুজোয় এখনও বলি প্রথার চল রয়েছে৷ নবমী আর দশমীর দু’দিনই বলি হয়৷ নবমীতে আখ, চাল কুমড়ো ও গোড়া লেবু বলি হয় এবং দশমীতে গোড়া লেবুর সঙ্গেই বলি হয় চ্যাং মাছ। তবে সেই চ্যাং মাছ কোন জালে ধরা চলবে না। খাল, বিল, পুকুর থেকে হাতে ধরতে হবে৷ নিয়ম এমনটাই৷

 

 

সেন পরিবারের প্রবীণ সদস্য গৌরী প্রসাদ সেন বলেন, ‘‘অনেক আগে যখন জমিদারী ছিল তখন দেবী মূর্তি আসতো বলে শুনেছি। এখন দেবী মূর্তির বদলে ঘটে পুজো হয়।’’ ঠিক কত বছর আগে কার হাত ধরে এই পুজোর সূচনা সে সম্পর্কে পরিবারের কারোর ধারণা নেই৷ জানা নেই কেন এই পুজো পাঁচের পরিবর্তে মাত্র দু’দিনের৷

তবে দুদিনের পুজো হলেওউৎসাহে ভাটা পরে না সেন বংশের সদস্যদের৷ গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন কারণে আজ সেনেদের বেশিরভাগ সদস্যই অন্যত্র থাকেন৷ কিন্তু পুজোর উপলক্ষে শিকড়ের টানে তারা সবাই অষ্টমী ও নবমীতে ফেরেন গ্রামের বাড়িতে৷ সেম বাড়ি তখন আনন্দ কোলাহলে মুখরিত৷