স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: বর্ষা পড়তেই সীমান্ত পেরিয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশে গরু পাচার। এরই মধ্যে বাংলাদেশে গরু পাচার করতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু হল দুই বাংলাদেশির৷ এরা ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মালদহ- মুর্শিদাবাদের মধ্যে গঙ্গা পেরিয়ে বাংলাদেশে গরু পাচার করতে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ৷

বিএসএফ সূত্রে খবর মৃতরা দুজনেই বাংলাদেশি। এদের নাম রয়েল রহমান ও সাদ্দাম হোসেন। বাড়ি মালদহ জেলার পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দুর্লভপুর এলাকায়। রাতের অন্ধকারে সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার করার সময় মুর্শিদাবাদ জেলার চাঁদনী চক এলাকার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা আটকাতে গেলে পাচারকারীরা জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা গুলি চালালে দুই জনের মৃত্যু হয়। এদের সাথে থাকা বাকি পাচারকারীরা বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে যায় বলে খবর৷

আরও পড়ুন : আপাতত তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির নাম প্রশান্ত কিশোর : মুকুল রায়

একদিকে শুরু হয়েছে বর্ষা৷ বাড়ছে গঙ্গা নদীর জল৷ অন্যদিকে সামনেই রয়েছে ইদুজ্জোহা বা কুরবানি ঈদ। বরাবরের মতন এই সময় বাংলাদেশে গরু পাচারের প্রবণতা বেড়ে যায়। পাচারকারীরা মূলত মালদার বৈষ্ণবনগরের শিবপুর ঘাট পারদেওনাপুর, শোভাপুর ও দক্ষিনে মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান ঘাটকে পাচারের অন্যতম করিডর হিসেবে ব্যবহার করে। উদ্দেশ্য গরু গুলিকে গঙ্গা নদী দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাখের আলী এলাকায় পৌঁছে দেওয়া। এবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে হয়ে উঠেছে দুই দেশের গরু পাচারকারী সিন্ডিকেট।

সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের অভিযোগ, বৈষ্ণবনগরের দৌলতপুরের জয়নাল জয়নাল শেখ, পারদেওনাপুর,সোনাপুর এলাকার আব্দুল কাদের, রফিক শেখ, বরজান শেখ, বাবর আলীর মত গরু পাচারকারীরা মুর্শিদাবাদ জেলার গরু পাচারকারীদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে রমরমিয়ে শুরু করে দিয়েছে গরু পাচার।

পুলিশ ও বিএসএফের নাকের ডগায় গরু পাচার হলেও নির্বিকার প্রশাসন। এদের দাপটে অতিষ্ট সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারন মানুষ। রাত্রিবেলা শয়ে শয়ে গরু সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। বাংলাদেশি গরু পাচারকারীরা নদী সাঁতরে ভারতে প্রবেশ করছে ফলে একদিকে যখন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে দাঁড়াচ্ছে তেমনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকার মানুষ বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন : আধার কার্ডে তথ্য ভুল থাকলে দিতে হবে মোটা জরিমানা

সাধারণ গ্রামবাসীদের জমির ওপর দিয়ে এই গরুগুলিকে মূলত ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে তাদের ফসল নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেকেই এই গরু পাচারকারীদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি এই গরু পাচার যাতে বন্ধ হয় এবং সীমান্ত এলাকার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে, তার উদ্যোগ নিতে হবে প্রশাসনকে৷

বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ নম্বর বিজিবির ডেপুটি কমান্ডেন্ট একলাসুর রহমান সেখানকার সংবাদ মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও বিএসএফের কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷ মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরব মন্ডল বলেন, গ্রামবাসীদের এ ধরনের কোনো অভিযোগ থাকলে তারা সরাসরি থানায় অভিযোগ জানান। কোন রকম অসুবিধা হলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুক। আমরা প্রশাসনকে বলবো যথাযোগ্য ব্যবস্থা নিতে।