নয়াদিল্লি : দেশবাসী ভারতীয় বায়ু সেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দনের ফিরে আসার আনন্দে উৎসবের মেজাজে মেতে উঠেছে৷ কিন্তু অভিনন্দন নিজে জানেন ওই দুই দিন কি পরিস্থিতির মধ্যে তাঁকে কাটাতে হয়েছে। সেই দলে পড়েন ওঁরাও। তাঁরাও জানেন দেশের হয়ে লড়তে গিয়ে পাকিস্তানের হাতে ধরা পড়লে কেমন হয়। জানে ঠিক কি হালদ করে ছাড়ে পাকিস্তান। ভারত – পাক বিভিন্ন সময়ের যুদ্ধ চলাকালিন এই তিন ভারতীয় পাইলটকে পাক সেনা তাদের হেফাজতে নিয়েছিল৷ তাঁরা ভারতীয় বায়ুসেনার কে. নচিকেতা,জে এল ভার্গভ এবং করিয়াপ্পা।

কে.নচিকেতা, ১৯৯৯ এর কার্গিল যুদ্ধের সময় পাক সেনার হেফাজতে ছিলেন৷বলাটিক সেক্টরে ৯ নম্বর স্কোয়াড্রন আইএএফ পাইলটের মধ্যে একজন ছিলেন৷ছিলেন বায়ু সেনার ফ্লাইট লেফ্টনেন্ট ৷ তাকে প্রায় ৮ দিনের জন্য পাক সেনাদের হেফাজতে থাকতে হয়েছিল৷ নচিকেতা ৮০ এমএম রকেটসের মাধ্যমে শত্রুদের ঠিকানায় হামলা করেছিলেন৷ তবে ৩০এমএম কেনন দিয়ে দ্বিতীয় হামলা করার সময় তাঁর বিমানের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়৷ নচিকেতা বিমান থেকে ঝাঁপ মারেন এবং পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে পড়েন। প্রায় তিন ঘন্টা নিজেকে পাক সেনার নজর থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।

তারপরে পাকিস্তান সেনার হাতে ধরা পরে যান এবং তাঁকে ৮ দিন পাক সেনার হেফাজতে থাকতে হয়৷ জানা যায় তার উপর ক্রমশ অত্যচার করা হয় এবং ভারতে বিভিন্ন বিষয়ে এবং ভারতের মিশনের বিষয়ে তথ্য বের করার চেষ্টা করা হয়৷নচিকেতা ৩ জুন ১৯৯৯ পর্যন্ত পাক সেনার কাছে বন্দি ছিলেন৷ তার পর ইউএনএ’র চাপের সামনে পাকিস্তান মাথা নত করে তাঁকে রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক সমুদয়ের হাতে তুলে দেয়৷ ভারত ফেরার পর তাকে বায়ুসেনার পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়৷

কে সি করিয়াপ্পা , ১৯৬৫ এর যুদ্ধের সময় ভারতের এই এয়ার মার্শাল চার মাস পাক সেনার হেফাজতে ছিলেন৷ করিয়াপ্পার বিমান যুদ্ধের শেষ দিন পাকিস্তানে গিয়ে পরে৷ তিনিও অন্য অধিকারিকদের মতো পাক সেনা কে শুধু তার নাম,ইউনিট নম্বর এবং র‍্যাঙ্ক বাদে অন্য কোনও তথ্য দেননি। এরপরে তাঁকে পাক জেলে রাখা হয়েছিল। চার মাস পর পাকিস্তান জেনারেল আয়ুব খান রেডিওর মাধ্যমে তাকে ভারতের হেফাজতে তুলে দেওয়ার কথা ঘোষনা করেন।

প্রাক্তন বায়ু সেনা কর্তা জেএল ভার্গব , ১৯৭১ এর যুদ্ধ চলাকালীন এক বছর পাক সেনার হেফাজতে ছিলেন। জে এল ভার্গবকে পাক সেনা কলমা পড়তে বলেছিল৷ তবে কলমা না পড়ার ফলে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল৷ প্রায় ১২ ঘন্টা পাক সেনার কাছ থেকে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি৷পাক সীমানায় তার বিমান পড়ার আগেই তিনি ঝাঁপ মেরেছিলেন৷ ধরার পর অভিনন্দনের মতো তাঁকেও পাক সেনা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল৷ তবে উত্তর মেলেনি।

পাক বিমান এফ-১৬ কে ধ্বংস করে পাকিস্তানে গিয়ে পরে অভিনন্দন বর্তমানের বিমান৷ ভারত সরকারের চাপে পরে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বৃহস্পতিবার সংসদে অভিনন্দনকে দেশে ফেরানোর কথা ঘোষণা করেন৷ শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ভারতের হাতে তাঁকে তুলে দেয় পাকিস্তান।