ওয়াশিংটন : অনেক পরে মুখ খুলেছিলেন তিনি। শান্ত হতে বলেছিলেন সমর্থকদের। তবে ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ ভবন ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে তান্ডব চালিয়েছেন ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকরা। সেই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে দেশ বিদেশের সংবাদমাধ্যমে, সোশ্যাল মিডিয়ায়।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বিএস নিউজআওয়ার একটি সমীক্ষা প্রকাশ করে। তাতে দেখা গিয়েছে, ১৮ শতাংশ রিপাবলিকান ক্যাপিটল হিলের হিংসাকে সমর্থন করছেন। ৮০০ জনেরও বেশি রিপাবলিকান তাঁদের মতামত হিংসার সমর্থনে দিয়েছেন। তবে ৮৮ শতাংশ রিপাবলিকান এই হিংসাকে সমর্থন করেননি।

যাঁরা এই হিংসাকে সমর্থন করেননি, তাঁদের দাবি এই উন্মত্ততা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তির জন্য খুব একটা সদর্থক নয়। জিওপি বা রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরা কার্যত দুভাগে এখন বিভক্ত। রিপাবলিকানদের পাঁচ ভাগের একভাগ বিষয়টি সমর্থন করেছেন বলে জানাচ্ছে ওই সমীক্ষা। সমীক্ষা আরও জানাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের তিন শতাংশ ও ইনডিপেনডেন্টদের ৭ শতাংশ এই উন্মত্ত হিংসার স্বপক্ষেই কথা বলেছেন।

তবে এই হিংসাকে সমর্থন না করলেও ট্রাম্পের সমর্থনে রয়েছেন ৬৯ শতাংশ রিপাবলিকান। তাঁরা মনে করেন এই নির্বাচনে গাফিলতি রয়েছে। ট্রাম্পের জয় প্রায় নিশ্চিত ছিল। ক্যাপিটল হিলে হওয়া হিংসার পিছনে ট্রাম্পের কোনও হাত নেই, বা থাকলেও তা খুবই সামান্য।

শুক্রবারের সমীক্ষার ফল জানাচ্ছে ৪৮ শতাংশ আমেরিকান চান বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়া হোক, তবে ৪৯ শতাংশ চান এরকম না করলেও চলবে। ইন্ডিপেনডেন্টদের মধ্যে ৫১ শতাংশ মনে করেন ট্রাম্পকেই মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।

এদিকে, আগামী ২০ জানুয়ারি আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন জো বাইডেন। মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেবেন ভারতীয় বংশোদ্ভুদ কমলা হ্যারিস। বুধবারই টুইটে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমেরিকার ভোটের ফলাফল তিনি মানেন না। তার পরেই মূলত ট্রাম্পের উসকানিতেই ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায় ট্রাম্প সমর্থকরা। ট্রাম্প সমর্থকরা সংসদে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়।

বিশ্ব জুড়ে সেদিন সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের তান্ডবে স্তম্ভিত আমেরিকা-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। সবথেকে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। এই বিক্ষোভে তাঁর প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। নিজের সমর্থকদের কোনও রকম শান্ত করার চেষ্টা করেননি ট্রাম্প বলেও অভিযোগ উঠেছিল।

শেষমেশ বিদায়ী প্রেসিডেন্ট তাঁর সমর্থকদের শান্ত থাকার আবেদন করেন। ভিডিওবার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘‘ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ হোক। এই অশান্তি বন্ধ হোক। ২০ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসছে। সেই প্রক্রিয়া সুস্থ, গঠনমূলক ও সংবিধানসম্মত হোক।’’ ১৬০ সেকেন্ডের ভিডিওতে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‘হোয়াইট হাউসে তাঁর প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদের সময়, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.