ছবি- প্রতীকী

নয়াদিল্লি: শীতে কুঁকড়ে থাকা রাজধানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড৷ আগুনে পুড়ে ছাই অন্তত ১৭ জন৷ দমকলের প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী, উত্তর দিল্লির বাওয়ানা শিল্পতালুকের একটি বাজি কারখানায় আগুন লেগেছে৷ এলাকার একটি বাড়িতে দু’টি তলায় এই কারখানা ছিল৷ ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছুটে যান দমকলের আধিকারিকরা৷ আগুন নেভানোর জন্য দমকলের প্রায় ১৫-২০ ইঞ্জিন সেখানে পৌঁছয়৷ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ৷

আরও পড়ুন: আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের পাসপোর্ট তৈরির ভাবনা রাজ্যের

দমকলের এক আধিকারিক জানান, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ আগুন লাগে৷ সঙ্গে সঙ্গে ১০টি ইঞ্জিন পাঠানো হয়৷ তার পর ঘটনার ভয়াবহতা অনুধাবন করে ক্রমশ বাড়ানো হয় ইঞ্জিনের সংখ্যা৷ যে বাড়িতে বাজি কারখানা ছিল তার এক ও দু’তলায় আগুন লাগে৷ কেউ কেউ ওপরের তলা থেকে লাফিয়ে নীচে পড়েন৷ ফলে অনেকেই গুরুতর আহত হন৷ কিন্তু অনেকেই বেরতে পারেননি৷ প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের দাবি, বেশিরভাগ মহিলারা বেরতে পারেননি৷

দমকলের তরফে জানানো হয়েছে, ১৩জনের মৃত্যু হয় দু’তলায়৷ একতলায় যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে তিনজন মারা গিয়েছেন৷ মৃতদের মধ্যে আর একজন বেসমেন্টে ছিলেন৷ দমকলের ধারণা আরও কয়েকজন ভিতরে আটকে থাকতে পারে৷ তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে৷ তবে শেষপর্যন্ত তাঁদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান দমকলের আধিকারিক৷ ফলে মৃতের সংখ্যা পরে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন: অসম থেকে উদ্ধার ৭০ লাখ টাকার সোনা

এই ঘটনার পরই তৎপরতা শুরু হয় প্রশাসনের তরফে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতর থেকে টুইট করা হয়৷ টুইটে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়৷ পাশাপাশি মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়৷ আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করা হয়৷ আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রসাদ নাড্ডা৷ পাশাপাশি তিনি এইমস কর্তৃপক্ষকেও ট্রমা কেয়ার সেন্টার প্রস্তুত রাখতে বলেন৷ প্রয়োজনে আহতদের সেখানে পাঠানো হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে৷

 

দিল্লি সরকারের তরফেও টুইট করেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷ এই ঘটনায় তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন৷ পাশাপাশি জানান, পরিস্থিতির উপর দিল্লি প্রশাসনের আধিকারিকরা কড়া নজর রেখেছেন৷ তবে আগুন লাগার কারণ জানাতে পারেননি দমকলের আধিকারিকরা৷ তাঁদের ধারণা, বাজি কারখানা হওয়ায় সেখানো অনেক বারুদ ছিল, তা থেকে আগুন লাগতে পারে৷ আবার শর্টসার্কিটও আগুন লাগার কারণ হতে পারে৷ তবে কেজওয়ালের মন্ত্রিসভার এক সদস্য জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷