নয়াদিল্লি: বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এই বছরের বন্যায় সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতের মোট ১৪টি রাজ্য। পরিসংখ্যানের রিপোর্ট বলছে, লাগাতার বৃষ্টি এবং বন্যার ফলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে প্রান হারিয়েছেন ১৬৮৫ জন মানুষ। এছাড়াও নিখোঁজ হয়েছে শতাধিক মানুষ। বন্যার কারনে বিভিন্ন ত্রান শিবিরে সরাতে হয়েছে প্রায় ২২ লক্ষ মানুষকে। রিপোর্ট বলছে বন্যার ফলে মোট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার হিসেব এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দীর্ঘায়িত এই বর্ষাই মৃত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে সেপ্টেম্বর ৩০ তারিখ পর্যন্ত।

জানা গিয়েছে, বিগত ২৫ বছর পরে ভারতে রেকর্ড পরিমানে বৃষ্টি হয়েছে এই মরশুমে। ১৬ অগস্ট থেকে বৃষ্টির ফলে প্লাবিত দেশের ৮০ শতাংশেরও বেশী জেলা। বর্তমানে দেশে বন্যা কবলিত জেলার সংখ্যা ২৭৭টি। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিপর্যয়ই মোকাবিলা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে যে, এবার বন্যায় দেশের ২২ লক্ষ মানুষকে অন্যত্র সরাতে হয়েছে। এছাড়াও বন্যা দুর্গতদের সাহায্যার্থে তৈরি করা হয়েছে ৮,৭০০ ত্রাণশিবির ।

রিপোর্ট অনুযায়ী, বিগত ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত সারা বিশ্বে যতগুলো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে তারমধ্যে ভারতে এই বছর রেকর্ড বৃষ্টি এবং বন্যা হয়েছে।

‘ইউএনডিআরআর’ এর রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে যত বন্যা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ই ঘটে তার মধ্যে বন্যা হয় ৪৪ শতাংশ। আর প্রতিবছর এই বন্যার মূলে রয়েছে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমিকম্প। এছাড়াও এর মধ্যে বাকি বাহাত্তর শতাংশ রয়েছে অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ই।

ইউএনডিআরআর’এর রিপোর্টে গত কুড়ি বছরে বন্যার ফলে ভারতের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমান তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টে ভারতে বিগত কুড়ি বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমান প্রায় ৮০ লক্ষ কোটি টাকা। এছাড়াও ভারতের প্রায় ৮৭ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতির পরিমান রিপোর্টে উঠে আসেনি। এমনকি এই বিচারে, বিপর্যয়ে ক্ষতির দিক থেকে বিশ্বের পাঁচটি দেশের মধ্যে ভারতেরও নাম রয়েছে। ফলে বন্যা বা বিপর্যয় পরবর্তী অবস্থা কাটিয়ে উঠা এইসমস্ত দেশের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, এই বছরের বৃষ্টি এবং বন্যার কারনে সব থেকে বেশী প্রান গিয়েছে মহারাষ্ট্রে। বন্যার ফলে এই রাজ্যে মৃত মানুষের সংখ্যা ছিল ৩৭৭ জন। মহারাষ্ট্রের পরেই মৃত্যুতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বৃষ্টি এবং নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় বন্যার ফলে এই রাজ্যে মারা গিয়েছেন মোট ২২৫ জন মানুষ। বিহারে মারা গিয়েছে ১৩০ জন। কেরল এবং মধ্যপ্রদেশ এই দুটি রাজ্য মিলিয়ে মারা গিয়েছে মোট ১৮০ জন, গুজরাটে ১৫০, কর্ণাটকে ১০৫ এছাড়াও অসমে বন্যায় মারা গিয়েছে ৯৭ জন মানুষ।