নয়াদিল্লি : পিৎজা ডেলিভারি বয়ের সংস্পর্শে আসা ১৬ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি নেই। সাময়িক ভাবে হলেও বেশ কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন তাঁরা। সাউথ দিল্লির জেলা শাসক ব্রিজ মিশ্র জানিয়েছেন, ওই ১৬ জন, যারা ডেলিভারি বয়ের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে এসেছিল, তাঁদের করোনা টেস্ট করা হয়। কোয়ারেন্টাইনেও রাখা হয়। অবশেষে রিপোর্ট এসেছে। দেখা গিয়েছে প্রত্যেকেরই রিপোর্ট নেগেটিভ।

সোমবার এই রিপোর্ট পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ওই ব্যক্তিরা ও তাদের পরিবার। উল্লেখ্য, দিল্লির ওই পিৎজা ডেলিভারি বয়ের শরীরে কোভিড ১৯ পজিটিভ ধরা পড়ার পরে বাকি সহকর্মীরা ছাড়াও ৭২ টি পরিবারকে কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানা যায়, দিল্লির মালব্য নগরের কাছে ওই ডেলিভারি বয়ের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। আর তারপরেই ওই ডেলিভারি বয় যে সব বাড়িতে গিয়েছিল তাদের কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জানা গিয়েছে ওই আক্রান্ত ডেলিভারি বয় দক্ষিণ দিল্লির সাবিত্রি নগরের বাসিন্দা। ২০ দিন আগেই তার শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীকালে শারীরিক পরীক্ষার পরে পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যাওয়াতে সে মালব্য নগর এলাকার যে সব বাড়িতে গিয়েছিল সেই ৭২টি বাড়ি খুঁজে বের করা হয়। বাসিন্দাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও ওই ডেলিভারি বয়ের সঙ্গে কাজ করা বাকি ১৭ জনকে কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে রাজধানী দিল্লিতেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি জায়গা হট স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই কারণে প্রশাসনের তরফেও করা নজরদারি রাখা হয়েছে।

পিৎজা ডেলিভারি বয় করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরই অনলাইন খাবার ব্যবসায় রাশ টানার কথা ভাবনা চিন্তা করা শুরু হয়। দিল্লির মানুষদের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। দিল্লি সরকারের তরফ থেকে সেই মেসেজে লেখা ছিল দিন কয়েক এখন ঘরে তৈরি খাবার খান। শুধু শুধু কোয়ারেন্টাইনে থাকার চেষ্টা করে কি লাভ। বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করার প্রবণতা কমাতে নিয়ম করে দেয় দিল্লি প্রশাসন। জানানো হয় সংক্রমণ এড়াতে এখন অনলাইন ফুড ডেলিভারি কোম্পানিগুলিকে তাদের ব্যবসায় রাশ টানতে বলা হয়েছে।

শেষ ২৪ ঘন্টায় সামনে এয়েছে ১৫৫৩ টি নতুন আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৬ জনের। দেশে সবমিলিয়ে করোনা আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়াল ১৭ হাজার ২৬৫ ও মোট মৃতের সংখ্যা ৫৪৩। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ১৭ হাজার ২৬৫ জন আক্রান্তের মধ্যে ২৫৪৬ জন সুস্থ হয়ে গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৫৪৩ জনের। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছে মহারাষ্ট্রে। সেখানে মৃত্যুর হারও বেশি। অন্যদিকে দিল্লিতে ইতিমধ্যে ২০০০ জন ছাড়িয়ে গিয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।