গান্ধীনগর: দলিত বাড়ির ছেলের বিয়ের শোভাযাত্রা কিছুতেই উচু বর্ণের মানুষদের আবাসস্থলের পাশ দিয়ে যেতে পারবে না। এমনইটাই দাবি করেছিল এলাকার উঁচু জাত তথা পতিদার সম্প্রদায়ের লোকেরা। নির্দেশ অমান্য করায় বরযাত্রীদের উপরে চলল হামলা। শতাধিক পতিদারের হামলায় তৈরি হল চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা। জখম হতে হল একাধিক পুলিশকর্মীকেও।

ঘটনাটি ঘটেছে নরেন্দ্র মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাতে। ওই রাজ্যের আরাবল্লী জেলার মোদাসা তালুকের খাম্বিসার গ্রামে ঘটে ওই অঘটন। চলতি মাসের ১২ তারিখে ওই গ্রামের এক দলিত পাত্রের বিয়ে ছিল। উত্তেজনার আগাম আশঙ্কা থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছিল বাহিনী। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ভোটের মাঝেই জাতিগত বিদ্বেষের সাক্ষী থাকতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যকে।

আরও পড়ুন- বিদ্যাসাগরের মূর্তি বসিয়ে তৃণমূল-বিজেপিকে জবাব দিতে চলেছে কংগ্রেস

মোদাসা থাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে গত রবিবার খাম্বিসার গ্রামের এক দলিত পাত্রের বিয়ে ছিল। ওই পরিবারকে পতিদার সম্প্রদায়ের লোকেরা বরযাত্রীদের নিয়ে যাতে শোভাযাত্রা না করা হয় সেই হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই হুমকি অগ্রাহ্য করে শোভাযাত্রা করার পরিকল্পনা করে পাত্রপক্ষ। পাত্রের বাবা দয়াভাই রাঠোর হুমক্র বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতেই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

কিন্তু নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল পতিদার সম্প্রদায়ের লোকেরা। বরকে নিয়ে বরযাত্রীদের শোভাযাত্রা পতিদারদের পাড়ায় ঢুকতেই শুরু হয় বিক্ষোভ। পুলিশের পক্ষ থেকে অনেক বুঝিয়েও কিছু করা যায়নি। উলটে পুলিশ এবং বরযাত্রীদের উপরে হামলা করে পতিদারেরা। এমনই জানিয়েছেন মাদোসা থানার সাব ইনস্পেক্টর এসএফ চাভদা। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী এই ঘটনায় জখম হয়েছেন।

আরও পড়ুন- প্রার্থী নিয়ে হিন্দু মুসলমান খেলা খেলছেণ অধীর, বিস্ফোরক শুভেন্দু

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই হামলার ঘটনায় জড়িত প্রায় ১৫০ জন পতিদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ১৬ জন মহিলা রয়েছে। সাব ইনস্পেক্টর এসএফ চাভদা জানিয়েছেন যে হামলার ঘটনায় বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পাত্রের পিতা দয়াভাই রাঠোর। সেই অভিযোগপত্রে প্রায় ১৫০ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে ৪৫জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই ৪৫ জনের মধ্যেই ১৬ জন মহিলা রয়েছে।

ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যার মধ্যে হিংসা ছড়ানো, খুনের চেষ্টা, অবৈধ জমায়েত, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং তফসিলি জাতি-উপজাতি সংক্রান্ত ধারা রয়েছে।