নয়াদিল্লি:  দুর্নীতি দমনে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে যে দুবার ভাববেন না তা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কাস্টমস ও কেন্দ্রীয় শুল্ক দপ্তরের ১৫ জন সিনিয়র অফিসারকে বরখাস্ত করল কেন্দ্রীয় সরকার। যা কিনা দ্বিতীয় মোদী সরকারের আমলে বড়সড় সিদ্ধান্ত বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে বিবৃতি জারি করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে যে, ৫৬(জে) ধারা অনুযায়ী সিবিআইসির প্রিন্সিপাল কমিশনার থেকে সহকারী কমিশনার পর্যন্ত ১৫ জন সিনিয়র আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তাঁদের কাজের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। যদিও এদের মধ্যে অনেকে আগে থেকেই সাসপেন্ড ছিলেন। এর আগে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ১২ জন আয়কর কর্তাকে একইভাবে বাধ্যতামূলকভাবে অবসর নিতে বলা হয়েছিল।

তার শাসনকালে কোনও দুর্নীতিকে প্রশয় দেওয়া হবে না। ভোট প্রচারে এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। মানুষের রায়ে দ্বিতীয়বারের জন্যে বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এসেছেন নরেন্দ্র মোদী। আর ক্ষমতায় এসে এবার ঘরের ভিতরে কার্যত সার্জিকাল স্ট্রাইক শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া দাওয়াই দিচ্ছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে ২৭ জন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অফিসারকে বরখাস্ত করা হল।

জানা গিয়েছে, যে ১৫ জনের বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, ঘুষ নেওয়া, জোর করে টাকা আদায়, হিসাব বর্হিভুত সম্পত্তি রাখার মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়েছিল। এমনকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সিবিআই রীতিমত তদন্ত চালাচ্ছে। অবশেষে এই বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার।

অর্থ মন্ত্রকের তরফে এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় শুল্ক পরিষেবায় (সি অ্যান্ড সিই) যুক্ত ১৫ অফিসারকে জনস্বার্থে অবসর নিতে বলা হয়েছে। এঁরা প্রত্যেকেই ৫০ বছর বয়স অতিক্রম করেছেন। ১৫ জনকে তাঁদের আগামী তিন মাসের বেতন এবং প্রাপ্য ভাতাও মিটিয়ে দেওয়া হবে। এই আইন মেনেই গত সপ্তাহে আয়কর দপ্তরের ১২জন অফিসারকেও অবসর নিতে বলা হয়।