লখনউ: বিগত ৩ দিন ধরে উত্তরপ্রদেশে গোটা রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে ক্রমাগত ভারী বৃষ্টিপাত। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। রাজ্যের বহু জেলাতেই জলবন্দী অবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে বৃষ্টির জেরে ধসে পড়েছে ১৩৩টি বাড়ি। প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন মানুষ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৯ থেকে ১২ জুলাই প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে গোটা উত্তরপ্রদেশে জুড়ে। সেই কারণে গঙ্গায় জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। ফলে, শনিবার রাজ্যের সাধারণ জনজীবনে চরম প্রভাব পড়েছে। ১৫ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ক্রমাগত ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে ১৩৩টি বাড়ি। তাছাড়া ওই বাড়ি গুলির নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২৩টি গবাদি পশুর। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত তিনদিনে রাজ্যের ১৪টি জেলায় শুরু হয়েছে বজ্র-বিদ্যুৎ সহ প্রবল বৃষ্টিপাত। উন্নাও, আমবেদকর নগর, প্রয়াগরাজ, বারাবাঙ্কি, হারদই, খিরি, গোরক্ষপুর, কানপুরনগর, পিলিভিট, সোনাভদ্র, চান্দোলি, ফিরোজাবাদ, মাও এবং সুলতানপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে শনিবার থেকে টানা পাঁচ দিন লখনউতে আকাশ আংশিকভাবে মেঘলা থাকবে। সেই সঙ্গে চলবে বৃষ্টি। তারা আরও জানাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও উত্তরাখণ্ড, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, মধ্য মহারাষ্ট্র, কোঙ্কণ, গোয়া, উপকূলীয় কর্ণাটক, অরুণাচলপ্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরাতেও শনিবার প্রবল বৃষ্টিপাত হবে।

উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলিতে বেশ কিছু দিন ধরেই টানা বৃষ্টি চলছে। ১২ জুলাই অর্থাৎ গত শুক্রবার আসামে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় মারা গিয়েছেন ৬ জন। আসামের ২১টি জেলাতেও শনিবার টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাব পড়বে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের ধেমাজি, লাখিমপুর, বিশ্বনাথ, সনিতপুর, দারনিং, বাক্সা, বারপেতা, নলবারি, চিরাং, বনগাইগাঁও, গোয়ালপাড়া, মরিগাও, হোজাই, নাগাও, গোলাঘাট, মাজুলি, জোরহাট, শিবসাগর, ডিব্রুগর, তিনসুকিয়া ২৪ ঘণ্টা চলবে ভারী বৃষ্টিপাত। এছাড়া মিজোরামে শুক্রবার সকালে ৩০০টি বাড়ি খালি হয়ে করে দেওয়া হয়েছে বৃষ্টিপাতের কারণে। রাজ্যের তলাবাং শহরটি বানভাসি হয়ে পড়েছে।