জলন্ধর: দুবাইয়ে কাজে গিয়ে ফিরে আসেননি অনেক ভারতীয়৷ অনেকে অত্যাচারিত, অনেকের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাদের কার্যত পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে৷ এই বিরাট ফাঁদ থেকে ১৫ ভারতীয়কে উদ্ধার করলেন এসপি সিং ওবেরয়৷ দুবাইয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ১৫ ভারতীয়র জীবন বাঁচালেন তিনি৷ নিয়ে এলেন ভারতে৷ কিভাবে? তা সত্যিই রোমাঞ্চকর এক গল্প৷

বড়সড় ক্ষতিপূরণ দিয়ে ১৫ ভারতীয়কে সাজামুক্ত করেছেন এসপি ওবেরয়৷ দুবাইয়ের জেলে মৃত্যুর অপেক্ষা করছিলেন ১৫ ভারতীয়৷ জানতে পেরে, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সিং৷ পঞ্জাবের জলন্ধরে এস পি সিংয়ের নিজস্ব ট্রাস্ট বোর্ড রয়েছে যার নাম সরবত দ্য ভালা ট্রাস্ট৷

নগদ ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে ১৫ ভারতীয়কে দুবাইয়ের কালো কুঠুরি থেকে দেশে ফেরাল এসপি সিং পরিচালিত ট্রাস্ট বোর্ড৷ জলন্ধরে এখনও পর্যন্ত এসে পৌঁছেছেন ১৪ ভারতীয় ,এরা প্রত্যেকেই পঞ্জাবি৷ বাকি ১ বিহারের বাসিন্দা কাগজপত্রের জটে আটকে, ফিরবেন তাড়াতাড়ি বলে জানিয়েছেন সিং৷ জলন্ধরে ১৪ পঞ্জাবিকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে সিং জানান, দেশের তরুণদের দুবাইয়ে চমকে ভেসে যাওয়া উচিত নয়৷ তাদের ভাবা উচিত তাঁরা কাজের জন্য কোথায় যাচ্ছেন, খোঁজখবর নিয়ে তবেই সিদ্ধান্ত নিক তরুণ সমাজ৷

২০১১-র নভেম্বর মাসে ১৫ ভারতীয়র মধ্যে হরবিন্দ সিং, রঞ্জিত সিং, দলবিন্দর সিং, সুচা সিং ও বিহারের ধর্মেন্দ্র কুমারের বিরুদ্ধে থুনের অভিযোগ ওঠে৷ বীরেন্দ্র চৌহান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে তাদের শারজায় মৃত্যুদণ্ড হয়৷ বাকি ১০ পঞ্জাবি পাকিস্তানি নাগরিককে খুন করার অভিযোগে আবু ধাবিতে মৃত্যুর সাজা পায়৷ ভুয়ো মামলায় তাদের ফাঁসানো হয় বলে অভিযোগ৷ বিষয়টি নজরে আসে এসপি সিং ওবেরয়ের৷ দুবাইয়ের বড়সড় হোটেল ব্যবসায়ী তিনি৷ পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে, দুবাইয়ে ফাঁদে পড়া ভারতীয়দের পাশে দাড়িয়েছেন৷ প্রত্যেকটি মামলা পর্যবেক্ষণের পর সিং ভারতীয় বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ নিজের পরিচালিত ট্রাস্ট বোর্ডকেও জলন্ধরে স্বচেষ্ট হতে বলেন৷ দুবাইয়ে এসে, ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয় বন্দিদের পরিবার৷ ২০ কোটি টাকার বন্দোবস্ত করে সরবত দ্য ভালা ট্রাস্ট৷

এখনও পর্যন্ত দুবাইয়ে ফেঁসে যাওয়া ৯৩ ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়েছেন সিং৷ জানালেন, বেআইনি কাজ অজান্তেই হয়৷ দুবাই সবার জন্য নয়৷ তবে কোনও ভারতীয় দুবাইয়ে এসে ফাঁসলে তিনি পাশে দাঁড়াবেন৷ তাই দুবাইয়ে এসেই যেন তাঁর সঙ্গে যোগযোগ করেন ভারতীয়রা৷