জয়পুর: ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিপত্তি৷ ঝোড়ো হাওয়া আর বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ল তাঁবু৷ ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছেন ১৪ জন৷ ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর৷ এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে৷

রাজস্থানের বারমেড়ের এই ঘটনাটি ঘটেছে৷ বারমেড়ের রানি ভাটিয়ানি মন্দিরে এক অনুষ্ঠানের জন্য প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিলেন৷ তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল একটি বড় তাঁবুতে৷ কিন্তু আচমকাই ঝড় বৃষ্টিতে তাঁবু ভেঙে ১৪ জনের মৃত্যু হয়৷ জয়পুর থেকে ৫০০ কিমি দূরে বারমেড়ের এই ঘটনায় শোকজ্ঞাপন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতর৷

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় সবরকম সাহায্য করবে কেন্দ্র৷ মৃত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি৷ ঘটনাস্থলে পৌছন স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকরা৷ আহতদের জেলার বালোতরা ও যোধপুরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়৷

ওই অনুষ্ঠানে প্রায় হাজার খানেক লোক উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷ প্রতিকূল আবহাওয়াতেই শুরু হয়েছে উদ্ধার কাজ৷ নিয়ে যাওয়া হয়েছে জেসিবি মেশিন৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ওই অনুষ্ঠানে তখন রাম কথা চলছিল৷ সে সময়ই গোটা তাঁবুটা উপড়ে গিয়ে ভেঙে পড়ে৷ প্রচুর মানুষ তাঁবুর তলায় চাপা পড়েন৷

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খিনভ সিং জানান, প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টির জেরেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে৷ তবে এখনও কিছু মানুষ ওই তাঁবুর তলায় চাপা পড়ে থাকতে পারেন৷ গোটা ঘটনার ওপর কড়া নজর রেখেছে পুলিশ৷ তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় উদ্ধারকাজে গতি আনা যাচ্ছে না৷

তবে স্থানীয়দের ধারণা, তাঁবু চাপা পড়ে নয়, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এত মানুষের৷ পুলিশ সূত্রে খবর, এত লোকের জমায়েত হওয়ার আগে কোনও অনুমতি নেয়নি অনুষ্ঠানের আয়োজকরা৷ ফলে পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷

প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি, গোটা ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটও৷ পুলিশকে কড়া হাতে এই বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি শুধু ঝোড়ো হাওয়া বা প্রবল বৃষ্টি নয়, এর আগেই ধুলোঝড়ে ভিত নড়বড়ে হয়ে যায় তাঁবুর৷ ফলে খুব সহজেই মাটি থেকে উপড়ে আসে সেটি৷