নয়াদিল্লি: মানেশ্বর কারখানা চত্বরে ২০১২ সালে দাঙ্গা হাংগামার জন্য মারুতির ১৩ জন প্রাক্তন শ্রমিকের যাবজ্জীবন কারাবাসের নির্দেশ দিল আদালত ৷ ওই ঘটনার জেরে একজন এক্সিকিউটিভের মৃত্যু ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন৷ তাছাড়া ওই ঘটনার জন্য চার জন প্রাক্তন কারখানা কর্মীর পাঁচ বছরে জেলে নির্দেশ দিয়েছে গুরগাঁও শেষন আদালত ৷ ১০ মার্চ ওই মামলায় আদালত ৩১জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ১১৭ জনকে প্রমাণের অভাবে মুক্তি দেয়৷ ওই ৩১ জনের মধ্যে বিচারাধীন ১৪ জনকে কোনও শাস্তি না দিলেও জরিমানা করা হয়েছে ৷

আরও পড়ুন: মারুতি-শোরুমের কর্মীদের মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার দুই

এই কর্মীদের আইনজীবিরা জানিয়েছেন তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে পাঞ্জাব ও হরিয়াণা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানাবেন৷ শতাধিক পুলিশ অফিসারের সামনে যারা দাঙ্গা হাংগামার সময় নিযুক্ত ছিল কারখানা চত্বরে এদিন আদালত রায় দেয়৷ আদালতের পাশাপাশি মারুতি কারখানা এবং অফিসেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল৷

২০১২ সালের জুলাই মাসে এক কর্মীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা নিতে গেলে মানেশ্বর কারকানায় শ্রমিক অসন্তোষ দানা বাঁধে৷ উত্তেজিত শ্রমিকরা কারখানায় একাংশে আগুণ ধরিয়ে দেয় ফলে সেখানে সংস্থার সিনিয়র এইচআর ম্যানেজার অশ্বিনী কুমার দেব পুড়ে মারা যান৷ ওই ঘটনায় ৯৪ জন এক্সিকিউটিভ ও ম্যানেজার এবং নয়জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছিলেন৷ এরফলে ১৪৮জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও অশান্তি ছড়ানোর চার্জ দেওয়া হয়েছিল৷ সেদিনের ওই ঘটনার জেরে দু’মাসের উপর মানেশ্বর কারখানা বন্ধ রেখে ছিল মারুতি সুজুকি৷ তাছাড়া এমন ঘটনার জেরে ২০১২-১৩ সালে গাড়ির বাজারে এই সংস্থার আধিপত্য কমে গিয়ে হয়েছিল ৩৯ শতাংশ যেখানে ২০১০-১১ সালে গাড়ির বাজারের ৪৫ শতাংশ ছিল মারুতির দখলে৷

মারুতি উদ্যোগের কর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কুলদীপ জাংগু জানিয়েছেন, যেসব প্রমাণের ভিত্তিতে এদিনের রায় দেওয়া হয়েছে তা মিথ্যে৷ এজন্য শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ স্বরূপ শ্রমিকরা শনিবার রাতে এক ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করবে৷ যদিও মারুতি সুজুকির মুখপাত্র জানিয়েছে শনিবার হরিয়াণার দুটি কারখানা মানেশ্বর এবং গুরেগাঁও দুজায়গাতেই উৎপাদন স্বাভাবিক ছিল৷ মানেশ্বর দেশের সর্বৃহৎ গাড়ি কারখানা যেখানে বছরে ৮,০০,০০০ গাড়ি উৎপাদন হয় এবং গুরেগাঁও কারখানায় ৭,০০,০০০ গাড়ি উৎপাদন হয়৷

All rights reserved by @ Kolkata24x7 II প্রতিবেদনের কোন অংশ অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ