ফাইল ছবি

মুম্বই: বাইরে প্রচণ্ড গরম৷ ওই প্রবল গরমেও ঘর থেকে বেরিয়েছিল ১২ বছরের তানিশ৷ কারণ, তাকে কাগজ কুড়িয়ে দু’পয়সা আয় করতে হবে৷ পরিবারের মুখে ভাত তুলে দিতে হবে৷ সেই চিন্তায় গরমকে অগ্রাহ্য করে কাগড় কুড়োতে বের হয়৷ কিন্তু বেশিক্ষণ বাইরে থাকতে পারেনি ৷ গরম থেকে বাঁচতে গাড়ির মধ্যে আশ্রয় নেয়৷ সেটাই কাল হল৷ গাড়ির মধ্যে দমবন্ধ অবস্থায় মৃত্যু হল তানিশের৷

মর্মান্তিক ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের আকোলা জেলার আলেওয়াড়ি গ্রামের৷ জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ঠাকুমার সঙ্গে কাগজ ও প্লাস্টিক কুড়াতে বের হয়৷ কিন্তু প্রচণ্ড গরম লাগায় কাছে থাকা একটি গাড়ির মধ্যে আশ্রয় নেয় সে৷ গাড়িতে ঢোকার পরই সেটি অটোমেটিক লক হয়ে যায়৷ ফলে দরজা খুলে আর বেরতে পারেনি৷ অপরদিকে গাড়ির জানলাগুলি বন্ধ ছিল৷ গাড়িতে হাওয়া ঢোকার সব পথই বন্ধ থাকায় শ্বাসকষ্ট শুরু হয় ৷ কিছুক্ষণ পর সেখানে মারা যায় সে৷

ওদিকে রাতে গাড়ির মালিক এসে দেখেন ভেতরে একটি ছেলে আচ্ছন্ন অবস্থায় শুয়ে আছে৷ যখন তানিশকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ততক্ষণে সব শেষ৷ পুলিশও জানিয়েছে,গাড়ির মধ্যে দমবন্ধ হয়েই মারা যায় ছেলেটি৷ প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গাড়িটি গত দু’বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল৷ তাতে কিছু যান্ত্রিক ক্রুটি ছিল৷ সেই জন্য দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর সেটি খোলা যায়নি৷ পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেছে৷ শুরু হয়েছে তদন্ত৷

আকোলা জেলাটি পূর্ব মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ রিজিওয়ের অংশ৷ প্রবল গরম ও সেই সঙ্গে তীব্র জলকষ্টের জন্য বারবার খবরের শিরোনামে চলে আসে বিদর্ভ৷ গত কয়েকদিন ধরে উত্তর ও পশ্চিম ভারত জুড়ে তীব্র দাবদাহ৷ জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝিতেই মহারাষ্ট্রের চন্দ্রাপুরের পারদ উঠেছিল ৪৮ ডিগ্রিতে৷ ওই দিন এই তাপমাত্রা এই মরশুমের বিশ্বের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ে৷